পাওয়াইয়ের পুজোমণ্ডপ এ বার ‘বিবেকানন্দ রক’

সুতপা সরকার, মুম্বই
০৬ অক্টোবর, ২০১৬, ০০:০৪:১২ | শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ২৩:২৯:৫২
পাওয়াই বেঙ্গলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান-এর (পিবিডব্লুএ) যাত্রা সেই ২০০৬-এ শুরু দক্ষিণেশ্বর-এর মন্দির থেকে।

সন্ন্যাস গ্রহণ করে স্বামী বিবেকানন্দ বেরিয়ে পড়লেন ভারতবর্ষ নামক এক বিশাল দেশকে অন্তর থেকে উপলব্ধি করতে।নতুন করে জানতে। প্রায় ছ'বছর ধরে বিভিন্ন প্রান্ত পদব্রজে অতিক্রম করে উপস্থিত হলেন কন্যাকুমারীতে, তদানীন্তনমাদ্রাস শহরে -- ১৮৯২ সালের ডিসেম্বর।  সমুদ্র উপকূলে দাঁড়িয়ে তার চোখ পড়ল প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিতএক ভূখণ্ডের ওপর। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আর তাকে ঘিরে চলেছে ভারত মহাসাগরের উত্তাল নৃত্য।  ভারতবর্ষেরশেষ প্রান্তবিন্দু।

সেখানে তাকে পৌঁছতেই হবে। নাহলেতো ভারতদর্শন সম্পূর্ণ হবেনা। স্থানীয় ধীবরদের কাছে ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন সেইভূখণ্ডে পাড়ি দেওয়ার। কিন্তু বিধি বাম। কেউ রাজি হল না। বরং তাঁকে অবগত করল আশু বিপদ সম্পর্কে। কিন্তু স্বামীজীরমনে তখন সেই ভূখণ্ডে পৌঁছবার বাঁধনহীন ব্যাকুলতা। ঠাকুরের নাম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন সেই উত্তাল সমুদ্রের বুকে।সব বাধা, বিপদ উপেক্ষা করে সাঁতরে পার হলেন...পায়ে হেঁটে উঠলেন সেই ভূখণ্ডের চূড়ায়। ধ্যানে বসলেন সমগ্র ভারতবাসীর মঙ্গলকামনায়।

 

Beyond Bengal Durga Puja Celebration In Powai - Ananda Utsav

    পাওয়াই সার্বজনীন দুর্গোৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অর্ক মুখার্জী এবং শান্তনু মৈত্র

পাওয়াই বেঙ্গলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান-এর (পিবিডব্লুএ) যাত্রা সেই ২০০৬-এ শুরু দক্ষিণেশ্বর-এর মন্দির থেকে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত অতিক্রম করে এ বছর একাদশ বর্ষে পদার্পণ করে তারা উপস্থিত সুদূর দাক্ষিণাত্যে। ঊমা আসবে তার পিতৃগৃহে। আর কয়েকটা দিনের প্রতীক্ষা। তাই মুম্বই শহরের এক ছোট্ট শহরতলি পাওয়াই সেজে উঠছে কন্যাকুমারীস্থিত বিবেকানন্দ রকের আদলে। সেই ভারতের শেষ প্রান্তবিন্দু, যেখানে স্বামীজী ধ্যানমগ্ন হয়েছিলেন আপামর ভারতবাসীর কল্যাণকামনায়।

প্রথম বছর থেকেই এই দুর্গোৎসবের জাঁকজমক, আড়ম্বর, মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা ও সুন্দর ব্যবস্থাপনা মন কেড়ে নেয় আপামর মুম্বইবাসীর। এ বছরেও তার ব্যতিক্রম হবে না, দাবি আয়োজকদের। এই দুর্গোৎসবের আরও একটা বড় আকর্ষণ হল পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান— শ্রেয়া ঘোষাল থেকে শান— বহু নামী-দামি শিল্পী তাঁদের সাংস্কৃতিক পসরা সাজিয়েছেন গত দশ বছর ধরে। এ বছরেও তার ব্যতিক্রম হবে না। আয়োজনে, আড়ম্বরে, সাজে, শয্যায়, পুজোয়, সেবায়, আদরে, আন্তরিকতায় এ বারও মন কাড়বে পিবিডব্লুএ-র পাওয়াই সর্বজনীন দুর্গোৎসব।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। পিবিডব্লুএ-র কর্মকাণ্ড আজ শুধু দুর্গাপুজোর আয়োজনে সীমিত নয়। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের মুখেও উৎসবের দিনে হাসি ফোটানোর জন্য তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সেই জন্মলগ্ন থেকে। তাই দুর্গোৎসবের সময় একত্রিত অনুদানের একটা বড় অংশ তারা সরিয়ে রাখে সমাজকল্যাণমূলক কাজের জন্য।

 

সর্বশেষ সংবাদ

আম বাঙালি স্নিকারকে যদি আপন করে নিতে পারতেন, তা হলে পায়ের বা কোমরের সমস্যা বোধহয় অনেকটাই কমে যেত।
ছোটবেলায় যে লেনগুলোয় দুষ্টুমি করতাম, এখন বান্ধবীর কাছে সে সব নিয়ে গল্প করা যায়।
পুজোয় নতুন জামার সঙ্গে নতুন জুতো কিন্তু মাস্ট। আর জুতো তো হাল ফ্যাশনের হতেই হবে।
প্রতিমার সিংহ ঘোটক আকৃতির, তিন চালি বিশিষ্ট চালচিত্রকে বলা হয় মঠচৌড়ি
কল্লোলের দুর্গোৎসব ৫৩ বছরে পা দিল
কাফে কলম্বিয়া-র নানান স্পেশাল মেনু সম্পর্কে জানালেন জেনারেল ম্যানেজার অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়।
সকালে ঢাক বাজিয়ে জুরিখ লেকে কলাবৌয়ের স্নান, মণ্ডপে আড্ডা, ভূরিভোজ, সন্ধেয় ধুনুচি নাচ আর অনুষ্ঠান
বাঙালি মানেই যে-কোনও উৎসবে ভুরিভোজ মাস্ট। কলেজের রিইউনিয়ন থেকে ফ্যামিলি গেটটুগেদার, বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে পুজোপার্বণ।