স্টকহোমের দুর্গাপুজো এ বার পাঁচ বছরে পা দিল

প্রিয়রঞ্জন ভকত, স্টকহোম
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০১:৪১:০৭ | শেষ আপডেট: ০৪ অক্টোবর, ২০১৭, ০২:৩৭:৩৩

বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ হল দৈনন্দিন কর্মসিক্ত জীবনের থেকে সামান্য বিরতি। একটা কথা আছে ‘হাসিই হল সব চেয়ে বড় ওষুধ’, যা বাঙালিদের কাছে সকলের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করাটাই বেঁচে থাকার রসদ।

স্টকহোম সার্বজনীন পুজো কমিটির এটি পঞ্চম প্রয়াস। আগের বছরগুলির মতো উদ্যোগ ও আয়োজনের ব্যাপক প্রচেষ্টা। এবং এই প্রচেষ্টা বাংলার পুজো কমিটিগুলির মতই বহু মাস আগে থেকে শুরু হয়। যার নিট ফল আজকের এই তিনটি (২৮-৩০ সেপ্টেম্বর) দিন। উপরি পাওনা হিসাবে সপ্তাহান্তের একটি দিন পুজো তিথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায়।

নতুন পুজো প্রাঙ্গণের আয়তন বড় হওয়ায় আয়োজক ও দর্শনার্থীদের সুবিধা হয়েছে। সুবিশাল সভাগৃহে ও খাবার পরিবেশন পরিসর ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বসার ব্যবস্থা, ছোট ছোট আলাপচারিতা ও প্রশাসনিক পরিচালনায় জায়গা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে সুবিধে হচ্ছে।

দুর্গাপুজোর আশাতীত ভিড়কে মাথায় রেখে একই প্রাঙ্গণে কালী পুজো ও ২০১৭-এর সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়। উভয় পুজো দর্শক সমাগমে যথেষ্ট আনন্দ ও উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। দুটো ব্যাপার আয়োজকদের চিন্তার কারণ— ১) প্রাঙ্গণের ভৌগোলিক আবস্থান ও পৌঁছানোর (অ)সুবিধা। ২) আর্থিক দায়ভার।

পূর্ববর্তী পুজো প্রাঙ্গণের তুলনায় ভাড়ার অতি বৃদ্ধি আয়োজকদের নতুন আর্থিক সাহায্যকারীর সন্ধান করতে হচ্ছে। এই ব্যাপারে যে কোনও সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সাহায্যের হাত বাড়ালে সংগঠনের এই বিশাল আয়োজন সুন্দরভাবে করা যেতে পারে। সংগঠনটিগত ২০১৫ সালে Skattyerketদ্বারা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান (IdeelaForeningkultur) হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে। প্রতি বছর আইন অনুযায়ী হিসাব পেশ করা হয়।

Durga Puja celebration in Stockholm-Ananda Utsav 2017

বর্তমান পুজোর সংখ্যাটি পঞ্চম বছরে পা দিল। বিদেশে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত এ রকম পুজো সংখ্যা খুব বেশি দেখা যায় না, যা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্টকহোমস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এই প্রয়াসকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে।

অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও আয়ের একটা সামান্য অংশ Aspire and Glee নামে বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে কলকাতার বস্তি এলাকার বাচ্চাদের নতুন সুন্দরতর সুযোগ সৃষ্টির প্রয়াসে ব্যয় হয়েছে।

পুজো অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে সুইডেনে বসবাসকারী ভারতীয়/ বাংলাদেশের জনসংখ্যার দিকটা দেখা যেতে পারে, যা আমাদের আয়োজনের দিকে দৃষ্টিপাত করতে পারে। ১৭০০ সালে সুইডেনের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লক্ষ, ২০১৭ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১ কোটির একটু বেশি। ২০১৫ সালে দেখা গিয়েছে মহিলাদের গড় আয়ু যেখানে ৮৪ বছর, সেখানে পুরুষদের ৮০,৪ বছর।SCB –র সর্বশেষ পরিসংখ্যান (৩ নভেম্বর, ২০১৬)অনুযায়ী ২০১৫ সালে ৫,৫০০ সুইডিশ নাগরিক এ দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে এবং একই সময়ে এসেছে ১,৩৪,২৪০ জন। আগত মানুষদের সর্বোচ্চ যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে, ভারতের স্থান ষষ্ঠ এবং বাংলাদেশের স্থান প্রথম ২০-র মধ্যে নেই। একক ভাবে ২০১৬-র সংখ্যা ধরলে বাংলাদেশের নাগরিক থেকে সুইডিশ নাগরিক রূপান্তরিত হওয়ার সংখ্যা ৬১১। আবার একই ভাবে এই দেশ ত্যাগ করার সংখ্যাটা ১৭০। একই সময়ে ভারতীয় থেকে সুইডিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করার সংখ্যা ৪,২৪৭। উল্টো দিকে নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার সংখ্যা ১,৭৩৮।

এ প্রসঙ্গে জেনে রাখা ভাল ১৯৭৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এ দেশের নাগরিকত্ব গ্রহন করার সংখ্যা ৫,৭৬৫ জন। একই সময়ে ১,৪০,৭৩১ জন ভারতীয় সুইডিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়াও স্বল্প মেয়াদী কাজে ও পড়াশোনার জন্য বেশ কিছু মানুষ ওই দেশ থেকে এ দেশে যাতায়াত করেন। সংখ্যা বিচারে আনুমানিক ২,০০,০০০ মানুষ আমাদের সাংস্কৃতিক, পুজো-পার্বণ, সামজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে কমবেশি পরিচিত। 

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।