বৃহত্তর ওয়াশিংটনে ‘সংস্কৃতি’র দুর্গাপুজো

বিশ্বজিৎ সেন, ওয়াশিংটন
২১ অগস্ট, ২০১৭, ১৬:১০:১৮ | শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ২৩:২৯:৫২
বৃহত্তর ওয়াশিংটন শহরের সবচেয়ে পুরনো বাঙালি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘সংস্কৃতি’-তে এখন তাই চলছে আলোচনার তুফান।
বৃহত্তর ওয়াশিংটন শহরতলি অঞ্চল এই মুহূর্তে  ভেসে যাচ্ছে মোহিনী গ্রীষ্মের বেলাশেষের সোনালী সোহাগে।  উজ্জ্বল লম্বা দিনের আলো, পর্ণমোচী সবুজের বৃন্দগান, হালকা পোশাক পরিধানের স্নিগ্ধতা, সব মিলিয়ে অগস্ট মাসের শেষে এখনও একটা  ছুটি ছুটি ভাব।
কিন্তু তা বললে তো চলবেনি।  ঝিক ঝিক করে যে  দুর্গাপুজো এগিয়ে আসছে। আর তার আগেই কুটনো কাটা, বাটনা বাটা, চানের গরম জল, বাবুর অফিসের টিফিন, সবই তো সেরে ফেলতে হবে। বৃহত্তর ওয়াশিংটন শহরের সবচেয়ে পুরনো বাঙালি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘সংস্কৃতি’-তে এখন তাই চলছে আলোচনার তুফান। সময় বাঁচাতে এ বার অবশ্য টেলিকনফারেন্সেই সেরে নেওয়া হচ্ছে  দুর্গামায়ের আগমনীর বেশির ভাগ আলোচনা। আটশো লোকের পাঁচ বেলার খাওয়াদাওয়া। কম কথা নয়কো! রান্না ভাল হতি হবে-পরিমাণ কম হলে চলবেনি-পরিবেশনের সময় মুখ যেন হাসিমাখা থাকে-ঠিক প্লেনের মতো! বিভিন্ন দিনের লাঞ্চ ডিনারের মেনু এবং ক্যাটারার নির্বাচন এখন শেষ পর্যায়ে।
প্রতিমার চালচিত্র সাজাবার কাজ শুরু হয়ে গেছে। সব কিছু কাজ নিজেদেরই করতে হয়। আগে থেকে চালচিত্র সাজিয়ে নেওয়া হয়। তার পর সপ্তাহান্তের পুজোর শুক্রবার সন্ধ্যেয় পুজোর হলে শুরু হয় ঘণ্টা দু’য়েকের মধ্যে সেই চালচিত্রগুলোকে দাঁড় করানোর এক ঘোড়দৌড়— সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। এ বার অবশ্য চেষ্টা চলছে গত বছরের সোলার কাজে সাজানো চালচিত্রগুলোকে পুনর্ব্যবহার করার। নহিলে সময় বড় বেশি লাগে।
এ বছরের কর্মকর্তারা শিল্পকলার দিকে অধিক নজর দিয়েছেন। ভারতবর্ষ থেকে নিয়ে আসছেন তরুণ প্রজন্মের একরাশ শিল্পীকে। গানের একটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ে এ বছরের জয়ী জীমূত এবং চন্দ্রিকা আসছেন শুক্রবার। আসছেন কয়েক বছর আগের রিয়্যালিটি শো জয়ী বিকাশজ্যোতি মজুমদার এবং সঞ্চারী বসু। দেবাশিস এবং রোশনি রায়চৌধুরী আসছেন পুরনো দিনের গানের সম্ভার নিয়ে। স্থানীয় বাঙালি শিল্পীরাও পিছিয়ে নেই এ বার। গুপী-বাঘার গল্প নিয়ে রচিত হয়েছে নাটক ‘গুপী বাঘা ইন আমেরিকা’। সেটি আবার পুনর্মঞ্চস্থ হবে এ বারের পুজোয়। এ ছাড়া রয়েছে আরও কিছু নৃত্যনাট্য। নাটক, নাচ-গানের রিহার্সালে উইকএন্ডের দুপুরগুলো এখন গমগম করছে কাউন্টিতে কাউন্টিতে বাঙালিজনের বাড়িতে।
 
সেপ্টেম্বরের ২৯, ৩০ এবং অক্টোবরের ১ তারিখ— এই তিন দিন নিয়ে আমাদের এ বারের বৃহত্তর ওয়াশিংটন শহরাঞ্চলের ‘সংস্কৃতি’ প্রতিষ্ঠানের দুর্গাপুজো। প্রত্যেক বারের মতো এ বারেও আমরা সবাই উন্মুখ হয়ে আছি এই উৎসবে সামিল হতে।
 

সর্বশেষ সংবাদ

আম বাঙালি স্নিকারকে যদি আপন করে নিতে পারতেন, তা হলে পায়ের বা কোমরের সমস্যা বোধহয় অনেকটাই কমে যেত।
ছোটবেলায় যে লেনগুলোয় দুষ্টুমি করতাম, এখন বান্ধবীর কাছে সে সব নিয়ে গল্প করা যায়।
পুজোয় নতুন জামার সঙ্গে নতুন জুতো কিন্তু মাস্ট। আর জুতো তো হাল ফ্যাশনের হতেই হবে।
প্রতিমার সিংহ ঘোটক আকৃতির, তিন চালি বিশিষ্ট চালচিত্রকে বলা হয় মঠচৌড়ি
কল্লোলের দুর্গোৎসব ৫৩ বছরে পা দিল
কাফে কলম্বিয়া-র নানান স্পেশাল মেনু সম্পর্কে জানালেন জেনারেল ম্যানেজার অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়।
সকালে ঢাক বাজিয়ে জুরিখ লেকে কলাবৌয়ের স্নান, মণ্ডপে আড্ডা, ভূরিভোজ, সন্ধেয় ধুনুচি নাচ আর অনুষ্ঠান
বাঙালি মানেই যে-কোনও উৎসবে ভুরিভোজ মাস্ট। কলেজের রিইউনিয়ন থেকে ফ্যামিলি গেটটুগেদার, বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে পুজোপার্বণ।