হইচই-এর হাত ধরে নেদারল্যান্ডসে জমে উঠেছে পুজো

দ্বৈপায়ন চক্রবর্তী
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১৬:২৭:২৪ | শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০৯:১৯:১১
দুর্গা পুজো কথাটার সঙ্গেই একটা ভাবনা লুকিয়ে আছে বাঙালির।
দুর্গা পুজোয় হইচই।

আজকের বাঙালির কাছে পুজোর মানে বিভিন্ন। যার অনেকটাই নির্ভর করে কোন বয়সের কাছে তা কল্পিত হচ্ছে তার উপর।

যবে থেকে বাঙালি ঘর ছেড়েছে, বোধহয় সবার ঘরে ফেরার টানের মধ্যে দুর্গা পুজোটা অন্যতম। কলেজ স্কোয়্যারের ভিড়, ম্যাডক্সের আড্ডা, পুজোর ঢাক, শিউলির গন্ধ, পাড়ার মাইকে গান, চার দিনের খাওয়া দাওয়া, সব মিলিয়ে পরিবেশটা এতোটাই আকর্ষণীয়। টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হলেও, ছুটি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হলেও, ঘরে এক বার ফেরা চাই-ই-চাই। মায়ের ডাকে। কিন্তু মন খারাপের একটা ছোট্ট অংশে কিছু প্রবাসী সব সময়ই থেকে যান। তার থেকেই জন্ম এই ভাবনার। প্রবাসে দুর্গা পুজো।

নেদারল্যান্ডসের মাটিতে অ্যামস্টারডামে আমরা (হইচই) তেমনই কিছু বাঙালিদের কথা ভেবে পুজোর কল্পনাকে বাস্তব করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

পয়লা বৈশাখ বা বিজয়া সম্মিলনীর মতো অনুষ্ঠান চূড়ান্ত সাফল্য আর সহযোগিতা পাওয়ার পর প্রত্যাশার পারদ যে বহু দিন থেকেই চড়ছে, তা বুঝতেই পারছিল হইচই। বেশ কিছু বছর ধরেই এগুলো ছিল এখানকার অপেক্ষার উত্সব।

হইচইয়ের ছোট্ট ইতিহাসে (২০১৫ থেকে) বেশ কিছু অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে এখন পরিবার বেশ বড় হয়ে উঠেছে। তাই দুর্গা পুজোর মতো এত বড় মাপের একটা উত্সবের আয়োজন করার আগে আমরা কিছুটা সময় নিচ্ছিলাম। মানুষের ভরসা পাওয়ার পর আর দেরি করিনি।

২০১৭-এর মার্চ মাসে কিছু মাথা একত্র হয়ে ঠিক হল আর দেরি নয়, এ বার মা-কে আনা হোক। তারপর থেকে পুরো হইচই পরিবারের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ বাস্তব হয়েছে সেই স্বপ্ন। ঠাকুর আনা হয়েছে কুমোরটুলির প্রসিদ্ধ প্রতিমা প্রস্তুতকারক কৌশিক ঘোষের কাছ থেকে। 

মোটের উপর চিন্তা ভাবনাটা প্রথমেই ঠিক ছিল। পুজো নয়, পুজোর মেলা হওয়াটা খুব জরুরি। তাই নাটক, ব্যান্ড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বুক স্টল, বাচ্চাদের খেলার জায়গা সব কিছুই ছিল পরিকল্পনায়।

পুজো হবে সমস্ত বিধি মেনে। অথচ বিদেশের মাটিতে বসে দশকর্মার জোগাড় করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বহু বন্ধুরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কলকাতা থেকে মালপত্র বোঝাই করে পুজোর সামগ্রী আনিয়ে দিয়েছেন।

তিন দিনের ভোজও সম্পূর্ণ বাঙালি। ইলিশ মাছের ঝোল, চিংড়ির মালাইকারি থেকে শুরু করে পাবেন ফুলকো লুচিও। বিধি মেনে সন্ধিপুজো, ধুনুচি নাচ, সিঁদুর খেলা তো রয়েছেই। এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করার জন্য এতো মানুষকে আমরা এক সঙ্গে পাব তা শুরুর দিকে অকল্পনীয় ছিল।

ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। নেদারল্যান্ডস থেকে সকলকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা ও ভালবাসা।

 

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।