
.jpg)
পুজো! ব্যাপারটার মধ্যেই একটা আলাদা শিহরণ আছে,আমেজ আছে। পুজো বলতেই শুধু ঠাকুর দেখা, একসঙ্গে চেনা-অচেনা মানুষদের সঙ্গে আড্ডা, বাড়ির রান্নার পাট উঠিয়ে কয়েকদিন পাড়ার ভোগ বা বাইরের খাবার নয়, থাকে নিজেকে সবার চেয়ে আলাদা করে সাজিয়ে তোলার একটা ইচ্ছেও। যে ইচ্ছের মধ্যে কম বেশি সকলের অন্দরে লুকিয়ে থাকে ‘জারা হটকে’ একটু ফুটেজ খাবার বাসনা!
গতবারের মতো এবারও পুজোর ফ্যাশন খাতায় শাড়ির কদর সবচেয়ে বেশি। গতবারের মত নেট-এর প্রতি ঝোঁক এবারেও। তবে চাহিদা বেশি ট্র্যাডিশনাল শাড়ির। যেমন পাটোলা, গাদোয়াল, ইক্কত। এই ধরনের যে কোনও শাড়ির সঙ্গে ইন্টারেস্টিং ব্লাউজ পরেই তাক লাগানো যেতেই পারে। আপনাদের বলে দিই, এবারে কিন্তু রেট্র ব্লাউজ আবার ফ্যাশন এ ইন। শর্ট কলার এ ফুল স্লিভ ও ডিপ কাট পিঠ এর ব্লাউজ বা স্ট্রিং দিয়ে বাঁধা পোলকা ডট ও ফ্রিল এর ব্লাউজ এর চল খুব। ষষ্ঠী বা অষ্টমীর স্পট লাইট আপনার ওপরে ফেলতে চাইলে, পরে ফেলুন গাদোয়াল এর সঙ্গে কন্ট্রাস্ট এ ব্রোকেড এর ব্লাউজ। বা, বোমকাই এর সঙ্গে কাঁথার ব্লাউজ যা এনে দেবে একটা এথনিক লুক। আমি কিন্তু ষষ্ঠীর দিন তাঁত এর শাড়িকে আটপৌরে করে পরছি এবার, সঙ্গে খোঁপা আর তাতে ফুল। টিপিকাল কুঁচি করা ওই ছ’ ফিট এর লম্বা শাড়ি কমবয়সীরা কিন্তু পড়তে চাইছে না, বরং তাদের জন্যে আইডিয়াল হবে স্টিচ করা মিক্স আন্ড ম্যাচ প্লেন শাড়ি বা মেখলা পাল্লু শাড়ি। শাড়ি পরে তার ঝামেলা সামলাতে না চাইলে জড়িয়ে ফেলুন জর্জেট বা শিফন।
মণ্ডপে মনকেমন করা হাওয়া তুলতে পুজো ফ্যাশনের মধ্যে কুর্তার কথা বলব। আনারকলি স্টাইল এখনও চলছে। আশির দশকের রেখার স্টাইল কিংবা 'এক দুজে কে লিয়ে'-র রতি অগ্নিহত্রীর আট ইঞ্চির চুড়িদার। এছাড়াও লম্বা, স্লিম কুর্তা আবার আসর জমিয়েছে। সঙ্গে পরে ফেলুন ম্যাচিং হেয়ার ব্যান্ড কিংবা বড় ইয়ার রিং। এক দল ঝলমলে হাসির ভিড়েরর মাঝে হালকা কনট্রাস্ট-এ সোবার গেট আপ এর মেলবন্ধন কিন্তু বাজিমাত করতে পারে অনায়াসেই। যারা ছিমছাম লুক পছন্দ করেন তাদের জন্য এ লাইন শর্ট কুর্তা ও লেগিন্স হবে আইডিয়াল।
প্রতিবার বাঙালির এই বড় উৎসবের একটা নিজস্ব রঙ থাকে। সুতরাং মনকেমনের হাওয়া তোলা অথবা, নিছক ঝাড়ি, পুজোর পোশাকের রং নির্বাচন কিন্তু একটা বড় কথা। পশ্চিমী পোশাকের ক্ষেত্রে অ্যাসিড বা ফ্লুরোসেন্ট রং এর সঙ্গে কন্ট্রাস্ট এর এক্সেসরি ম্যাচ করে পড়লে বেশ ট্রেন্ডি লুক আসে। কিন্তু ট্র্যাডিশনাল পোশাকের ক্ষেত্রে ফুসিয়া পিঙ্ক, বিনে, সানসেট ইয়লো, বা হালকা সবুজ পড়ুন। পশ্চিমী পোশাকে শর্ট লং ড্রেস বা ফ্রিল এর জামা ইন। এবারে পুজোতে বাজারে বড় কালারফুল ফ্লোরাল ও স্ট্রাইপ মোটিফের চাহিদা তুঙ্গে।
আসলে পুজো মানেই যেন একটা বিশাল ঝাড় লন্ঠন, যার সমস্ত দিক দিয়ে আলো ঠিকরে পড়ছে। আপনার সাজ, পোশাক বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ... ঠিক সেই ঝাড় বাতির আলোতে উজ্জল এক অনন্যার মত হওয়া চাই। সাজ ও পোশাক শরীরের গঠন মেনে করুন এবং বারবার বলছি আমজনতার ভিড় এ তাক লাগানোর জন্যে এমন পোশাক পরবেন না যেটাতে আপনি সহজ নন।
মোটকথা চারদিকের চোখ ধাঁধানো ফ্যাশন এর ঢেউ এ পুজোতে আপনাকেও সাজতে হবে সবার সেরা। আপনার টোটাল গেটআপ তাই বুঝে হওয়া চাই অনন্য ও অভিনব, মানে বেশ স্ট্রাইকিং। এক্সেসরিসের মধ্যে বড় ব্যাগ এর সঙ্গে কিন্তু ছোট বক্স ব্যাগ বা হ্যান্ড ক্লাচ ব্যাগ বেশ আই ক্যাচিং। জুতোর মধ্যে গ্লাদিয়াতর, ফ্ল্যাট এর সঙ্গে খুব খুব হিট হালকা হিল এর লেস দেওয়া জুতো। শর্ট ড্রেস এর সঙ্গে সাহস করেই পরেই ফেলতে পারেন এই জুতো। যারা আবার সেমি ক্যাসুয়াল লুক আনতে চান পুজোর বাজারে। তাদের জন্য বলছি ফ্লেয়ার প্যান্ট-এর সঙ্গে টাক-ইন করা টপ ও মিডিয়াম বেল্ট কিন্তু চলতেই পারে। সাজে প্যাটার্ন ভাঙবেন না,তাতে বড্ড বেমানান লাগে। মানে রেট্রোর সঙ্গে আজকের স্টাইল বা ক্যাসুয়ালের সঙ্গে এথনিক স্টাইল কে মিলিয়ে ফেলবেন না। ক্যাটরিনা বা শাবানা আজমি কি পরছেন তাই পরতে হবে এমনটা ভাববেন না প্লিজ। আপনাকে কি মানায় সেটা সাজ এর সময় আগে মাথায় রাখুন। এই ধরুন সকালের সাজ এ বোল্ড আই, গ্লসি লিপ আর হালকা মেক আপ ব্যবহার করলেন। আবার রাত্রে চুলে একটু বুফো বা লং কার্ল এর সঙ্গে গাঢ় রং এর পোশাক একটু ডার্ক মেক-আপ, ব্যাস আর চিন্তাই থাকবে না! ফিগার যদি তরঙ্গে ভরা হয় তবে প্যাম্পার করতে ভুলবেন না কোনো মতেই। ঠিক পোশাকে আস্কারা দিন ফিগারকে।
দুর্গোৎসব বাঙালির বড় উৎসব। এখানে যে টিপস দিলাম অনেকগুলো, সেগুলোকে মেনে নিশ্চয়ই সাজুন, তবে কোনও বিশেষ ট্রেন্ড ফলো করে নয়। পোশাক, এক্সেসারি আর মেক-আপ এই তিনটে জিনিসের পারফেক্ট সামঞ্জস্য রাখা চাই। আর ভারতীয় বা বিশেষ করে বাঙালি নারীদের যে একটা ক্রিয়েটিভিটি থাকে, সেটাকে আপনার সাজ এর মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তুলুন। সুতরাং, রং বা গ্ল্যামার এর উগ্রতা নয়, বাঙালির মেগা ইভেন্টে এবার তুরুপের তাস হয়ে উঠুক আপনার বুদ্ধিদীপ্ত ফ্যাশন।
মন্তব্য
By