বাড়ির অন্দরের রেস্তোরাঁতেই ইতিউতি বেঁচে থাক ঘরোয়া রান্নার স্বাদ

রুম্পা দাস
০৭ অক্টোবর, ২০১৬, ১১:১৬:৫৪ | শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর, ২০১৬, ১৩:২১:৪৩
pop up
(ছবি সৌজন্য: দ্য বেঙ্গল ঘরানা)

 তাঁরা বাড়ির বউ। রান্না নিয়ে ভালবাসা অপরিসীম। নিজের মা আর বিয়ের পরে শাশুড়ি মা— দু’জনেই পাকা হাতে তালিম দিয়েছিলেন বউমাদের। অন্য কিছুর জন্য নয়, শুধু রান্নার ভালবাসা থেকেই এই পাঠ। খেতে ভালবাসা, লোককে পাত পেড়ে গুছিয়ে বসে খাওয়াতে ভালবাসাতেই এর আনন্দকিন্তু কে জানত এই ভালবাসা থেকেই আসলে পুরোদস্তুর রেস্তোরাঁ না হলেও করা যাবে মনের মতো কিছু!

Pop Up Restaurant For This Durga Puja-Ananda Utsav

শহরে গত কয়েক বছরে একটা কথা বেশ প্রচলিত হয়েছে— ‘পপ-আপ রেস্তোরাঁ’। আদতে বছরের বা মাসের বিশেষ কিছু দিন নিজের বাড়িতেই হরেক পদ রান্না করে লোক খাওয়ানোর প্রচলন। নামেই রেস্তোরাঁ। কিন্তু ঘরোয়া পরিবেশই এর মূল চাবিকাঠি। আর এই সমস্ত পপ-আপ রেস্তোরাঁ চলছে রমরমিয়ে।

Pop Up Restaurant For This Durga Puja-Ananda Utsav

স্বপ্না বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই রাঁধতেন খাসা। তাঁর হাতের জাদুতে এতটাই মুগ্ধ ছিলেন বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন থেকে পাড়া-পড়শি পর্যন্ত যে মাঝে মাঝে বাড়িতে আর্জি আসত, ‘‘আজ দুপুরে ক’জন লোক আসবে, তুমি ওটা বানিয়ে দেবে?’’ কিংবা ‘‘কাল সন্ধেয় মেয়ের জন্মদিন। যদি তোমার হাতের অন্তত একটা রান্না থাকত!’’

Pop Up Restaurant For This Durga Puja-Ananda Utsav

এত সমস্ত অনুরোধ, উপরোধের মধ্যেই শুরুয়াত। যদি পুরনো বড় বাড়ির একটা তলার ঘরে আয়োজন করা যায় কয়েক জনকে বসিয়ে খাওয়ানো যায়, কেমন হয়? যেমনি ভাবা আর তেমনি কাজ। সঙ্গে সঙ্গে খুলে ফেলেছিলেন ‘দ্য বেঙ্গল ঘরানা’। বছরেরে তেরোটা পার্বণে না হলেও বিশেষ কিছু উৎসবে তাঁর রামময় রোডের বাড়িটা অচেনা লোকেদের ভিড়ে গমগম করে ওঠে। আর অচেনাই বলি কী করে? যিনি এক বার খেয়ে যান, তিনি ফিরে ফিরে আসেন। তাই অচেনা মুখগুলোই হয়ে ওঠে পরিচিত। ‘‘তবে আমার রান্না পুরোটাই সাবেক, বাংলার হারিয়ে যাওয়া রান্না’’, জানালেন স্বপ্নাদেবী। দ্য বেঙ্গল ঘরানার সম্ভারে পার্বণ অনুযায়ী পালিত হয় নববর্ষে বৈশাখী নওরোজা, জ্যৈষ্ঠে আহারে জামাই, বর্ষায় ইলিশে শ্রাবণ, কিংবা রবিঠাকুরের জন্য ঠাকুরবাড়ির রান্না। আর সময়টা যখন দেবীপক্ষ, নারীশক্তির আরাধনা না করে উপায়? তাই পুজোয় সপ্তমী থেকে দশমী থাকছে পর পর ‘কলাবউ ভোজ’, ‘কুমারী ভোজ’, ‘দুগ্গা ভোজ’ আর ‘বিজয়া ভোজ’। খাবেন কী? রাধাবল্লভী, ভাত, লাউ শুক্তো, মোচা বাটা, পালং বিউলি, ছক্কার কুমড়োর পাশাপাশি মেন কোর্সে থাকছে পাঁঠার কষাকষি, চিংড়ি বড়া, মাছ কুড়মুড়ে কিংবা নারকেল মাংস। পেয়ে যেতে পারেন কাঁকড়া বা পমফ্রেটের রসালো পদ। আর শেষ পাতে চালতার অম্বল, আমড়া কামড়াইয়ের সঙ্গে থাকুক আতা বা দইয়ের ক্ষীরা।

Pop Up Restaurant For This Durga Puja-Ananda Utsav

বড় বড় কাঁসার কিংবা মাটির থালায় থরে থরে সাজানো স্বপ্নাদেবী ও তাঁর পরিবারের তৈরি হরেক ব্যঞ্জন। সঙ্গে ঘরোয়া আড্ডা, গান, নাচ বা নাটকের পরিবেশ— পুজোয় অন্য রকম বাঙালিয়ানায় মজে যেতে তাহলে বাকি রইল কী?

তবে শুধু দ্য বেঙ্গল ঘরানা নয়, ট্র্যাঙ্গুলার পার্কে ‘লাভ ফর ফুড’ নামের পপ-আপ রেস্তোরাঁটি খুলেছেন শারদ্যুতি রায়চৌধুরী। দীর্ঘ দিনের রান্নাবান্নার অভ্যেস আর লোককে খাওয়াতে ভালবাসার ইচ্ছে থেকেই তৈরি এই রেস্তোরাঁ। তবে শুধু বাঙালি খাবার নয়, রীতিমতো এক্সপেরিমেন্ট করে ফিউশন ও বিদেশি খাবার মিলবে এই ভালবাসার রেস্তোরাঁয়। থাকে কিশমিশ দেওয়া মাছের চপ, গ্রিল্‌ড কিমা অন স্যুগারকেন স্টিক, কল্মি শাকের টেম্পুরা বা আলু-বেসিলের পুর ভরা কুমড়ো ফুলের বড়া। প্রত্যেক শনি আর রবিবার জমাটি আড্ডায় শারদ্যুতির হাতের রান্না খেয়ে ভেসে যেতে চাইলে আপনিও চলে আসতে পারেন। তবে এ বার পুজোয় শারদ্যুতির অতিরিক্ত সংযোজন ‘টেক অ্যাওয়ে’। বিজয়ায় মিষ্টিমুখ করার জন্য আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়ি যদি নিয়ে যান অন্য রকম কিছু? কিংবা বাড়িতে আসা অতিথিদেরই যদি দিতে চান শারদ্যুতির ভালবাসার ছোঁয়া? কিনে নিয়ে যেতে পারেন ডাবের পায়েস, আটার পায়েস, ছানার ভাপা সন্দেশ, বিবিখানা পিঠে, নারকেল-ক্ষীরের তৈরি আমিলা। থাকছে চকোলেট ম্যুস, স্যুফলে, নলেন গুড়ের ক্যারামেল কাস্টার্ড বা হলুদ পাতায় মোড়া নোনতা-মিষ্টি খাবারও।

Pop Up Restaurant For This Durga Puja-Ananda Utsav

তাই এই পুজোয় বাড়ির স্বাদে মজতে চাইলে, বন্ধু বা পরিবার নিয়ে ঘরোয়া আড্ডায় ভাসতে চাইলে, ভিড়ের বাইরে আপনার ঠিকানা হতেই পারে ‘লাভ ফর ফুড’ কিংবা ‘দ্য বেঙ্গল ঘরানা’!

 

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।