বাজি থেকে বিপদ রুখুন

সুমা বন্দ্যোপাধ্যায়
২৯ অক্টোবর, ২০১৬, ১০:১৮:৫৬ | শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর, ২০১৬, ১১:০০:৫৭
আলোর উৎসব দীপাবলিতে বাতাসে দূষণের মাত্রা ভয়ানক বেড়ে যায়। চকোলেট বোমার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়াই, চরকি, তুবড়ি, রংমশালের মতো আলোর বাজি থেকেও শ্বাসকষ্ট আর চোখের সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি ব্লাড প্রেশার বেড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বাজি পোড়ানোর সময় কিছু সাবধানতা নিতে বললেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা নন্দিনী রায় ও চেষ্ট ফিজিশিয়ান ডা সুস্মিতা রায়চৌধুরি।
cracker

শব্দবাজির বিরুদ্ধে অনেক শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ এখন সরব। তাই আশা করা যায় এবারের কালিপুজোয় শব্দ দানবের দাপট কিছুটা কমবে। কিন্তু আলোর বাজিও মোটেও নিরাপদ নয়। বিশেষত যাদের বারে বারে সর্দিকাশি হয় বা অ্যালার্জির প্রবণতা আছে তাদের জন্য আলোর বাজির ধোঁয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষত বাজির ধোঁয়ায় থাকা বিভিন্ন রাসায়ানিক থেকে চোখের সমস্যা হওয়ার প্রবণতা খুব বেশি। শিশু থেকে বয়স্ক সবার চোখেই ধোঁয়ার সংস্পর্শে অল্প বিস্তর অ্যালার্জি হয়। শব্দ বাজিই হোক অথবা আলোর বাজি,এদের উপাদান মোটেও পরিবেশের জন্য ভাল নয়য়আর আমাদের জন্য তো নয়ই। এর ধোঁয়ায় থাকে সালফার  ডাই অক্সাইড, বেরিয়ামের অক্সাইড, নাইট্রেট, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যাডমিয়াম সহ বিভিন্ন ভারীবিষাক্ত যৌগ যা মানুষ সহ সমস্ত প্রাণীদেহের ওপর বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। আমাদের চোখ অত্যন্ত সংবেদনশীল তাই সহজেই এর ওপর প্রভাব পড়ে। এমনিতেই কালিপুজোর রাতে বাতাসে দূষণের মাত্রা বহুগুন বেড়ে যায়। এর ওপর নিজেরা বাজি জ্বালাতে গেলে বিশেষ কিছু সাবধানতা অবলম্বন না করলে সমস্যা বাড়বে। বাজি পোড়ানোর সময় কমবেশি প্রায় সবারই চোখ জ্বালা করে। বাতাসে ভেসে থাকা বিভিন্ন রাসায়ানিক চোখের জলের লিপিড লেয়ারকে নষ্ট করে দেয় বলে চোখ জ্বালা করে ও চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়ে। আসলে লিপিড লেয়ার নষ্ট হয়ে গেলে চোখের জল দ্রুত শুকিয়ে যায়। এই সময়ে ড্রাই আইএর জন্য যে কৃত্রিম চোখের জল ব্যবহার করতে হয় তাই লাগানো উচিত। কালিপুজোর সময় কয়েকদিন এই আই ড্রপ লাগালে চোখের সমস্যা কিছুটা কমে। এছাড়া তুবড়ি, চরকি, বা হাওয়াই জ্বালানোর সময় সরাসরি বাজির ওপরে না থেকে একটু তেরচা ভাবে থাকলে ভাল হয়। আচমকা বার্স্টকরলে চোখে বা মুখে আগুনের হলকা লাগবে না। কোনও ভাবে আগুনের ফুলকি বা বাজির টুকরো চোখে ঢুকে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা জলের ঝাপটা দিতে হবে। জোরে চাপ দিয়ে চোখ রগড়াবেন না। একান্ত দরকার হলে সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা ক্লোরামফেনিকল জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ বা মলম লাগিয়ে ডাক্তার দেখানো উচিত। 

Keep Safe From Burning Crackers-Ananda Utsav

শুধু চোখই নয়, বাজির ধোঁয়া শ্বাসনালী সহ ফুসফুসের অত্যন্ত ক্ষতি করে। বিশেষত যারা ক্রনিক শ্বাসনালীর অসুখে ভুগছেন (যেমন হাঁপানি, সিওপিডি, ব্রঙ্কাইটিস, আইএলডি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি) তাদের বাজি না জ্বালালেই ভাল হয়। কালিপুজোর কয়েকটা দিন রাত নটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত সব বাতাসে স্মগ,মানে ধোঁয়াশা থাকে। এই সময়টা বাড়ির বাইরে না যাওয়াই ভাল। এ ছাড়া এই সময়টায় এয়ার কন্ডিশনেথাকলে দূষণের হাত থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যায়। বাজি পোড়ানোর সময় কয়েকটা ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত। যেমন সুতির পোশাক পরে খোলা বারান্দা, উঠোন বা ছাদে বাজি জ্বালানো উচিত। বদ্ধ জায়গায় বাজি জ্বালাতে গেলে ভয়ানক বিপদের আশঙ্কা থাকে। আর একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে যেখানে বাজি জ্বালাবেন সেখানে যেন অবশ্যই এক বালতি জল থাকে, যাতে আচমকা বিপদে দিশেহারা হয়ে না পড়তে হয়। চোখে চশমা থাকলে ধোঁয়ার হাত থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যায়। অসুবিধে হলে মাঝে মাঝে চোখে মুখে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। খুব দরকার মনে করলে পাতলা রুমাল ভিজিয়ে মুখ ঢেকে নিতে পারেন। যাদের শ্বাসকষ্টের কারণেঅক্সিজেন নিতে হয় তারা যেন ভুলেও অক্সিজেন সিলিন্ডার সহ বাজি জ্বালাতে যাবেন না। ভয়ানক বিস্ফোরনের সম্ভাবনা থাকে। রংমশাল, তুবড়ি, হাওয়াই বা ফুলঝুরির লাল, নীল, সবুজ আলোয় ভয়ানক সালফার, নাইট্রোজেন, কপার, বেরিয়াম, ক্যাডমিয়াম সহ বিভিন্ন বিষাক্ত যৌগ থাকে যা শ্বাসনালীর প্রদাহ সৃষ্টি করে। তাই শুধু যে শব্দ বাজিই খারাপ আর আলোর বাজি ভাল তা কিন্তু নয়। বাজির ধোঁয়া থেকে সর্দি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, সাইনাস, ল্যারিঞ্জানিটিস, হাঁপানির পাশাপাশি ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়া, হঠাত রেগে ওঠা, ঘুম কমে যাওয়ার মত সমস্যাও দেখা যায়। এছাড়া শব্দ বাজির তান্ডবে সাময়িক বা স্থায়ী ভাবে শ্রবণ শক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মত অসুবিধের সঙ্গে সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের চান্স বাড়ে। তাই বাজি পোড়াতেই পারেন , কিন্তু বুঝে শুনে। আগুন লেগে দুর্ঘটনার ভয় তো থাকেই। পুড়ে গেলে অবশ্যই ঠান্ডা জলে পোড়া অংশ ডুবিয়ে রাখুন। এরপর হাসপাতালে গিয়ে চিকিতসা করান। নিজেদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পরিবেশ, পশু পাখি সবার কথা ভাবুন। কালিপুজোর পরদিন ভোরবেলা রাস্তায় বেরোলে দেখতে পাবেন কত নিরীহ পশু পাখি মরে পড়ে আছে। নিজেদের আনন্দ যেন অবলা প্রাণীদের মৃত্যুর কারণ না হয়। একটু ভেবে দেখুন প্লিজ। আলোর উত্সবে আলোর মালায় সাজিয়ে তুলুন নিজের বাড়ি, পাড়া আর শহরকে। বাজি জ্বালানোর দরকারই বা কী! 

সর্বশেষ সংবাদ

ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।
সকলকে সাজিয়ে তুলতে দিওয়ালির সম্ভার নিয়ে হাজির ডিজাইনার শান্তনু গুহ ঠাকুরতা।
সকালে অন্যরা যখন ঘুমিয়ে পুজোর হুল্লোড়ের স্বপ্ন দেখছে আপনি তখন ঘেমে নেয়ে একাকার।
শুধু সল্ট লেক সিটি নয়, সাতশো মাইল দূর থেকেও অনেকে এই পুজো দেখতে এসেছিলেন।