মঠচৌড়ি, পানের খিলি আজও ধরে রেখেছে ঐতিহ্য

বিভূতিসুন্দর ভট্টাচার্য
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:৩০:০০ | শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১৩:৫৩:২০
২১১ বছর আগে রাধাকৃষ্ণ মিত্র এই পরিবারে পুজো শুরু করেছিলেন। ব্যতিক্রমী কিছু আচার অনুষ্ঠান, মঠচৌড়ি চালি আর বাংলা রীতির প্রতিমা এ বাড়ির মূল আকর্ষণ।
আচার অনুষ্ঠান, মঠচৌড়ি চালি আর বাংলা রীতির প্রতিমা এ বাড়ির মূল আকর্ষণ

সময়ের প্রভাবে বদলেছে সেই পাড়ার সাবেক গন্ধটাহাল আমলের কিছু বাড়ির মাঝে আজও ইতিউতি উঁকি দেয় ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের নিদর্শনপুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই দর্জিপাড়া রাধাকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির সামনে এলেই কচিকাঁচাদের উঁকিঝুঁকি কেমন যেন বেড়ে যায়বাড়ির ঠাকুরদালানে তিল তিল করে গড়ে ওঠা দশাভুজার এক ঝলক তাঁদের মুখে এনে দেয় অনাবিল আনন্দ।

২১১ বছর আগে রাধাকৃষ্ণ মিত্র এই পরিবারে পুজো শুরু করেছিলেন। ব্যতিক্রমী কিছু আচার অনুষ্ঠান, মঠচৌড়ি চালি আর বাংলা রীতির প্রতিমা এ বাড়ির মূল আকর্ষণ।

প্রতিমার সিংহ ঘোটক আকৃতির, তিন চালি বিশিষ্ট চালচিত্রকে বলা হয় মঠচৌড়ি। দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর পিছনে থাকে তিনটি অর্ধবৃত্ত। এই অর্ধবৃত্তের ঠিক উপরে থাকে তিনটি মঠের চূড়ার আকৃতির চালি। এই চালিতে অলঙ্করণের জন্য ব্যবহার করা হয় মাটির নানা রকম নকশা ও অপরাজিতা ফুল। লক্ষ্মী ও সরস্বতীর দুপাশে থাকে দুটি টিয়াপাখি ও মকরের মুখ। আবার লক্ষ্মী ও সরস্বতীর ঠিক পিছনে দুটি কুলুঙ্গির মধ্যে রাখা হয় এক দিকে রামচন্দ্র ও হনুমানের ছোট মাটির মূর্তি, অন্য দিকে ষাঁড়ের পিঠে শিবের মূর্তি। চালচিত্রে বা পটেও রয়েছে বৈচিত্র। মাঝখানের চালিতে আঁকা হয় ত্রিপুরাসুন্দরীকে। লক্ষ্মীর দিকের চালিতে আঁকা হয় কালী ও সরস্বতীর দিকে আঁকা হয় জগদ্ধাত্রীর ছবি। কার্তিক ও গণেশকে আজও পরানো হয় সে কালের কোঁচানো ধুতি। আজও বিপুল উৎসাহে এই পরিবারের সদস্যরা প্রতিমাকে সাজান।

এ বাড়ির পুজোয় চাল ও ফলের নৈবেদ্যর পাশাপাশি থাকে খিচুড়ির নৈবেদ্য। তাতে থাকে চাল ও মুগের ডাল। পুজোর আগেই মুগের ডালে ঘি মাখিয়ে ভাল করে রোদে দেওয়া হয়। একটি বড় থালায় চূড়া করে চালের উপরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় মুগের ডাল। এর চার পাশে থাকে নানা রকম কাঁচা আনাজ ও পাঁপড়। দেওয়া হয় বিভিন্ন রকমের কাঁচা মশলাও। থাকে মিছরি, মাখনের নৈবেদ্য আর পানের খিলি। পানপাতার শিরা দিয়ে তৈরি খিলি দেখতে অনেকটা ঝাড়বাতির মতো বলে একে বলা হয় ঝাড়খিলি। ফুলের পাপড়ির আকারে সাজিয়ে দেওয়া হয় নানা রকমের পানমশলা।

এই পরিবারের মেয়ে অনসূয়া বিশ্বাস বললেন, ‘‘বিশেষ রীতি অনুসারে সন্ধিপুজোয় ১০৮টি পদ্মের পরিবর্তে নিবেদন করা হয় ১০৮টি অপরাজিতা ফুল। পুজোর অর্ঘ্য বাছারও বিশেষ নিয়ম রয়েছে এ বাড়িতে। ধানের খোসা ছাড়িয়ে বেছে নেওয়া হয় অক্ষত চালের দানা। সেই অক্ষত চালই ব্যবহার হয় দেবীর অর্ঘ্যে। নবমীর দিন হোমের পরে পরিবারের সকলে প্রতিমা প্রদক্ষিণ করেন।’’

পুজোর খাওয়াদাওয়া সে কাল থেকে এ কাল খুব একটা বদলায়নি। পুজোর কদিন পরিবারের সকল সদস্য একসঙ্গেই খাওয়াদাওয়া করেন। সকালের জলখাবারে থাকে লুচি আর আলু, পাঁচ কলাইয়ের তরকারি। দুপুরে ভাত, শুক্তো, ভাজা, চচ্চড়ি, মাছের কালিয়া কিংবা ঝাল, পায়েস ইত্যাদি। আর রাতে লুচি, ধোঁকার ডালনা, কচুরি, আলুরদম, কুমড়োর ছক্কা ইত্যাদি।

আগে দশমীর দিন মুটেদের কাঁধে চেপে প্রতিমা বিসর্জনে যেতেন। কয়েক বছর হল ট্রলিতে করে প্রতিমা গঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় বাড়ির পুরুষ সদস্যদের আজও পরনে থাকে ধুতি এবং ওড়না। হাতে থাকে লাঠি। 

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।