স্বমহিমায় উজ্জ্বল আতপুরের রথবাড়ির পুজো

নিজস্ব প্রতিবেদন
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ২২:২৩:৫৭ | শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১৩:৫৩:২০

উত্তর চব্বিশ পরগনার শ্যামনগরের উত্তর প্রান্তে গঙ্গার তীরবর্তী অবস্থিত প্রাচীন জনপদ আতপুর। এখানকার প্রাচীন পারিবারিক পুজো বলেতেই রথবাড়ির দুর্গাপুজো বা ঘোষবাড়ির পুজোর কথা উল্লেখ্য।

পারিবারিক ইতিহাস অনুসারে অতীতে এই পরিবারের বসবাস ছিল গৌড়ে। বাংলার নবাব শায়েস্তা খাঁর আমলে পরিবারটি আতপুরে এসে বসবাস স্থাপন করেন। তৎকালীন নিমতলা অঞ্চলে বসবাস স্থাপন করেন বলেই তাঁদের বলা হত ‘নিমতলার ঘোষ’।

এই পরিবারের কাশীনাথ ঘোষ বাড়ির নিমগাছ কেটে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। পরিবারের গৃহদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ। কাশীনাথের পুত্র হরচন্দ্র ঘোষ ইংরেজ সরকারের সামরিক বিভাগে কাজ করতে করতে নিজ কর্ম দক্ষতায় মেজর পদ অর্জন করেন। শোনা যায় ইংরেজ-আফগান যুদ্ধে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

Durga Puja Celebration of Athpur's ghose's house-Ananda Utsav 2017

এই হরচন্দ্রই আতপুর নিমতলার কাছে একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করেন। তৈরি হয় বাড়ি সংলগ্ন ঠাকুরদালান। সেখানেই সিপাই বিদ্রোহের বছরে শুরু করেন দুর্গোৎসব। আজও বংশ পরম্পরায় প্রতিমা নির্মাণ করে আসছেন শান্তিপুরের মৃৎশিল্পীরা। সাবেক বাংলারীতির প্রতিমায় দেখা যায় শান্তিপুরি ঘরানার প্রভাব। অতীতে প্রতিমার ঐতিহ্যবাহী মাটির সাজ হলেও এখন অবশ্য রাংতা-চুমকির সাজ পরানো হয়।

এক কালে সন্ধিপুজোয় শূণ্যে বন্দুকের গুলি ছোঁড়া হত। সন্ধিপুজো শেষে বাড়ির পাঁচজন পুরুষ মাথায় মাটির সরা রেখে ধুনো পোড়ান। ধুনো পোড়ানো হয়ে গেলে বাড়ির ছোটরা তাঁদের কোলে এসে বসেন। এই প্রথা আজও চলে ‌আসছে।

Durga Puja Celebration of Athpur's ghose's house-Ananda Utsav 2017

ঘোষবাড়ির পুজোয় অন্নভোগের প্রচলন না থাকলেও দেওয়া হয় ঘিয়ে ভাজা লুচি, হলুদহীন তরকারি, হালুয়া রসকরা, নাড়ু,সন্দেশ ইত্যাদি। এক কালে ঐতিহ্যবাহী এই পুজো দেখতে ভিড় করতেন দূর-দুরান্ত থেকে আসা মানুষ। অতীতের সেই জৌলুস আজ না থাকলেও আভিজাত্যের গন্ধমাখা এই পুজো স্বমহিমায় উজ্জ্বল।

 

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।