শীতেই শুরু হয় বনেদিবাড়ির পুজোর প্রস্তুতি

বিভূতিসুন্দর ভট্টাচার্য
১৯ অগস্ট, ২০১৭, ২২:৩৪:০৪ | শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১৩:৫৩:২০
কোথাও দেওয়া হয় বড়ি, কোথাও রয়েছে অর্ঘ্য বাছার বিশেষ নিয়ম। লিখছেন বিভূতিসুন্দর ভট্টাচার্য
শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রতিমায় এ বার রংয়ের প্রলেপ পড়ার পালা।—নিজস্ব চিত্র।

সাবেক পুজো মানেই কিছু রাজবাড়ি, জমিদারবাড়ি আর বনেদি বাড়ির পুজো। এই সব পুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে কিংবদন্তি, ইতিহাস আর ভাল লাগা, যা আকৃষ্ট করে ছেলেবুড়ো সকলকেই।কালের গরিমায় জাঁকজমক নাই বা থাকলো, সে পুজোর আকর্ষণ শুধুই ঐতিহ্য আর আভিজাত্য।

বনেদি বাড়ির পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয় বহু আগে থেকে। কিছু কিছু বাড়িতে সরস্বতী পুজোর সময় থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়িতে শীতের মিঠে রোদে চলে বড়ি দেওয়ার পর্ব। এগুলি পুজোর নৈবেদ্যর সঙ্গে দেওয়া হয়। এর মধ্যে থাকে ভাজা বড়ি, ঝোলের বড়ি, এবং পালংশাকের বড়ি। শীতেই তৈরি হয় তেঁতুল ও কুলের আচার। পরে নতুন আম উঠলে তৈরি হয় আমের আচারও। এই তিন রকম আচার পুজোয় ব্যবহার করা হয়।

তেমনই মুক্তরামবাবু স্ট্রিটের রামচাঁদ শীলের বাড়িতে কিংবা দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়িতে পুজোর অর্ঘ্য বাছারও বিশেষ নিয়ম রয়েছে। পুজোর বেশ কিছু দিন আগে ধানের খোসা ছাড়িয়ে বেছে নেওয়া হয় অক্ষত চালের দানা। প্রতিটি অর্ঘ্যে ব্যবহৃত হয় ১০৮টি করে অক্ষত চালের দানা ও দূর্বাও।

Durga Puja preparations of Aristocratic Houses starts from winter

মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের শীল বাড়িতেও দেবী মূর্তি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে।—নিজস্ব চিত্র।

শাস্ত্রসম্মত পুজো করতে দেবীর মহাস্নানের জন্য বৃষ্টির জল, শিশির, বিভিন্ন নদীর জল সংগ্রহ ছাড়াও মহাস্নানের দশমৃত্তিকা জোগাড় করাটাও সহজসাধ্য নয়। ‘গজদন্ত মৃত্তিকা’, ‘বরাহদন্ত মৃত্তিকা’, ‘বেশ্যাদ্বার মৃত্তিকা’ ইত্যাদি এমনই দশ রকম মাটি নিয়ে দশমৃত্তিকা। এক কালে সাঁওতাল পরগনা এবং ওডিশার কিছু মানুষ এই সকল মাটি সংগ্রহ করে বনেদি বাড়িতে পৌঁছে দিতেন। বিনিময়ে মিলত উপযুক্ত পারিশ্রমিক। আজ ভরসা শহুরে প্যাকেট বন্দি দশমৃত্তিকা কিংবা তকমা আঁটা শিশি ভরা মহাস্নানের জল। তেমনই শহুরে পুজোয় ফুলওয়ালার ‘রেডিমেড’ নবপত্রিকা ভরসা হলেও গ্রামাঞ্চলের পুজোয় আজও বহাল আছে এ বাগান-ও বাগান ঘুরে কলা, বেল, ধান, হলুদ, ডালিম, অশোক, জয়ন্তী, মানকচু ও কচু গাছ জোগাড় করার ঐতিহ্য।

সে কালে চালি হত নানা রকম। বাংলা চাল, মঠচৌরি, টানাচৌরি, মার্কিনি, সর্বসুন্দরী, খোপচাল ইত্যাদি। এখন অবশ্য মার্কিনি চালই বেশি প্রচলিত। আগে মহালয়ার আশেপাশে প্রতিমার চালিতে পট লিখতে পৌঁছতেন পটুয়ারা। শিল্পীর হাতের জাদুতেই ফুটে উঠত চণ্ডী অথবা পুরাণের কাহিনি। পরবর্তী কালে কাগজের উপরে আঁকা পটের প্রচলন হয়। যা চালিতে আটকে দেওয়া হত। তবে গত কয়েক বছরে হাতে আঁকা পটের পরিবর্তে বাজারে এসেছে ছাপা পট।Durga Puja preparations of Aristocratic Houses starts from winter

দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে কাশিমবাজার রাজবাড়ি সেজে উঠছে।—নিজস্ব চিত্র।

প্রতিমার সাজেও এসেছে পরিবর্তন। এক কালের অভিজাত গৃহে প্রতিমার গায়ে শোভা পেত সোনা-রুপোর গয়না। তবে অতীতে গ্রামবাংলার বেশির ভাগ প্রতিমাই সনাতন মাটির সাজে সেজে উঠত। পরবর্তী কালে বিদেশ থেকে আমদানি করা রাংতা ব্যবহৃত হত সাজে। তারের কাঠামের উপর রাংতা জরি বসিয়ে তৈরি হত ডাকের সাজ। আসলে এই রাংতা আসত ডাকযোগে জার্মানি থেকে তাই এমন নামকরণ। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে কৃষ্ণনগরের তারের ডাকের সাজ, কিংবা কাটোয়া বা বর্ধমানের বনকাপাশির সাজশিল্পীরা এখন বছরভর কাজ করে চলেছেন। শোলার জোগান কমায় এবং দাম বাড়ায় এখন বাজারে চলছে থার্মোকলের সাজও। তবে কৃষ্ণনগরের তারের সাজের চাহিদা আজও থাকায় সময়ের সঙ্গে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। বুলেনের পরিবর্তে এসেছে কৃত্রিম জরি, কাচপুথির জায়গায় এসেছে প্লাস্টিক পুথি ও চুমকি।

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।