সোনার বেলপাতা আর ফুল দিয়ে পালাদার দেন পুষ্পাঞ্জলি

বিভূতিসুন্দর ভট্টাচার্য
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০৫:০০:২৫ | শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১৩:৫৩:১০

ইতিহাসের পাতায় নানা কারণে উঠে আসে মুক্তারামবাবু স্ট্রিট নামটা। অতীতে এই অঞ্চলের নাম ছিল চোরবাগান। শোনা যেত ডাকাতের উৎপাতের নানা লোমহর্ষক কাহিনি। তবে সে দিন আর নেই। পরবর্তী কালে সেখানেই গড়ে ওঠে জনবসতি। বসবাস শুরু করেন কলকাতার অন্যতম কিছু বর্ধিষ্ণু অভিজাত পরিবার।

মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে গত ১৬২ বছর ধরে হয়ে আসছে রামচাঁদ শীলের বাড়ির পুজো। সে কালে সচরাচর শুদ্র পরিবারে পুজোর প্রচলন ছিল না। তাই রামচাঁদ পুজো শুরু করেন তাঁর গুরুবাড়িতে। দু’বছর সেখানে পুজোর পরে মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে বাড়ি সংলগ্ন একটি ঠাকুরদালান তৈরি করে পুজোটি স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। অতীতে পঞ্চমীর দিন ভোরবেলা ঢাকিরা এসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঢাক বাজিয়ে জানিয়ে আসতেন, পুজো এসে গেছে। পুরনো রীতি অনুসারে মহালয়ার পরের দিন শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে হয় দেবীর বোধন। সেই থেকে নবমী পর্যন্ত রোজ চণ্ডীপাঠ হয়। রথের দিন হয় কাঠামো পুজো। তার পরে উল্টোরথের মধ্যেই প্রতিমা একমেটে হয়ে যায়।

Durga Puja spirit of Ramchand shil's House-Ananda Utsav 2017

সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত মোট ৩০০ কিলো চালের নৈবেদ্য হয়। এ ছাড়াও থাকে ১০০ কিলো চিনির নৈবেদ্য। এ ছাড়াও নৈবেদ্যে থাকে নানা রকম ফল ও মিষ্টি। আগে দোকানের কেনা মিষ্টি পুজোয় দেওয়া হত না। তখন বাড়িতেই সব মিষ্টি তৈরি হত। এখনও নারকেল নাড়ু, বোঁদের নাড়ু, পেঁড়াকি, হালুয়া, বরফি বাড়িতে তৈরি হয়। প্রায় একশো বছর ধরে সন্দেশ, চন্দ্রপুলি আর চন্দনী ক্ষীর আসে নতুন বাজারের নন্দলাল দত্তের মিষ্টির দোকান থেকে। এ ছাড়াও ভোগে থাকে লুচি, ভাজা, তরকারি,শিঙাড়া কচুরি ইত্যাদি। তবে ঠাকুরের ভোগে নুন ব্যবহার করা হয় না।

পুজোর জোগাড় শুরু হয়ে যায় অনেক আগে থেকে। সলতে পাকানোর পাশাপাশি আজও ধান কোটেন বাড়ির সধবা ও দীক্ষিত মহিলারা। দেবীর প্রতিটি অর্ঘ্যে ১০৮টি নিখুঁত চাল দেওয়ার জন্য এই ধান কোটা হয়। শুধু তাই নয়, পুজোয় যে সব শাড়ি এবং গামছা দেওয়া হয় তা কেচে তবেই নিবেদন করা হয়। কেননা, নতুন শাড়ি বা গামছায় থাকে ভাতের মাড়। এমনকী, যাঁরা পুজোর কাজ করেন তাঁরাও নতুন কাচা কাপড় পরে পুজোর কাজ করেন।

Durga Puja spirit of Ramchand shil's House-Ananda Utsav 2017

পুজোয় দেবীকে পরানো হয় বেনারসি শাড়ি, হাতে থাকে রুপোর অস্ত্র। বিশেষ উল্লেখযোগ্য, দেবী দুর্গার হাতে খাঁড়ার পরিবর্তে এখানে থাকে তলোয়ার। কার্তিক-গণেশকে পরানো হয় কোঁচানো ধুতি। ডাকের সাজের প্রতিমা হলেও তাঁকে পরানো হয় কিছু কিছু সোনা-রুপোর গয়না। সোনার বেলপাতা, জবা আর অপরাজিতা দিয়ে প্রতি বছর পুষ্পাঞ্জলি দেন পালাদার। আগে প্রতি বছর এগুলি নতুন তৈরি হত, পুজোর পরে এগুলি পেতেন পুরোহিতেরা। এখন স্থায়ী ভাবে তৈরি সোনার বেলপাতা, জবা আর অপরাজিতা দিয়েই প্রতি বছর নিয়মরক্ষা হয়। পরে সেগুলি আবার আগামী বছরের জন্য রেখে দেওয়া হয়। বাড়ির বউরা পুজোয় সোনার নথ আর পায়ে রুপোর মল পরবেনই পরবেন। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার সময়ে তাঁরা পরেন বেনারসি শাড়ি। আর বাড়ির পুরুষরা পরেন গরদের ধুতি আর গেঞ্জি।

সে কালে দুর্গাপুজো উপলক্ষে বসত বাঈনাচের আসর। সেই সব মেহফিলে এসেছিলেন গহরজান, মালকাজানের মতো বিখ্যাত সব শিল্পী। আজও সপ্তমীর সন্ধ্যায় বসে সঙ্গীতের আসর। তাতে অংশগ্রহণ করেন পরিবারের সদস্যরা। এক কালে পুজো উপলক্ষে নতুন গান রচনা করে সুর দেওয়া হত।

এই বাড়ির আরও একটা প্রথা হল পরের বছরের পালাদার বিসর্জনের আগে দেবীর কাছে পাঁচ রকম ফল দিয়ে পরের বছরের জন্য আবাহন করে থাকেন।

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।