সঠিক ‘জুতো আবিষ্কার’ না করতে পারলে বিপদ

সুমা বন্দ্যোপাধ্যায়
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১৪:০২:০৭ | শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:১৪:১৪
যখন তখন বৃষ্টি, ভ্যাপসা গরম বা রোদ্দুর— সব বিরূপতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দুর্গা পুজো হাজির। বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গা পুজোয় সব থেকে বেশি চাপ পড়ে আমাদের পেটে আর চরণযুগলে। কেন না, ঠাকুর দেখার জন্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আর মাইলের পর মাইল হাঁটা ছাড়া গতি নেই। “কদম কদম বাড়ায়ে” যাওয়ার জন্যে চাই এক্কেবারে ঠিকঠাক জুতো। বললেন উডল্যান্ডস হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন গৌতম সাহা।
ছবি: অনির্বাণ সাহা

আম বাঙালি স্নিকারকে যদি আপন করে নিতে পারতেন, তা হলে পায়ের বা কোমরের সমস্যা বোধহয় অনেকটাই কমে যেত। নাগাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বা দীর্ঘক্ষণ হেঁটে বেড়ানোর জন্যে স্নিকারের কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু তাতে কি আর ফ্যাশনেবল মানুষের মন ভরে! বিশেষ করে টিন এজারদের। একটা ব্যাপার সবসময় মনে রাখতে হবে, এমন জুতো পরুন তা যেন নরম আর আরামদায়ক হয়। দেখতে দারুণ ফ্যাশনেবল কিন্তু হাঁটতে গিয়ে দেখা গেল শক্ত জুতোর ঘষায় পায়ের অবস্থা কাহিল। অথবা টাইট জুতো পরে খুড়িয়ে হাঁটা ছাড়া গতি নেই। মধ্য বয়সী মহিলা ফ্যাশনেবল হাই হিল বা স্টিলেটো পরে গোড়ালির ব্যথায় কাতর। ঠাকুর দেখা মাটি। এই ধরনের সমস্যার হার এড়ানো যায় সহজেই।

Comfort Should Be Your Fashion For Durga Puja- Ananda Utsav 2017

·         পোশাকে ফ্যাশন করুন যা ইচ্ছে তাই। কিন্তু জুতোর ফ্যাশন হোক স্নিকার বা যে কোনও পা ঢাকা আরামদায়ক নরম সোলের জুতো।

·         পছন্দের জুতো পেলেন, কিন্তু মাপ সঠিক নয়। বেশ টাইট। কিন্তু সেটা না হলে জীবন বৃথা। তাই সেই জুতো জোড়াকেই সঙ্গী করলেন। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে কিছুক্ষণ পরেই জুতো হয়ে উঠল যন্ত্রণা। এরকম যেন কখনওই না হয় সে দিকে খেয়াল রাখুন। টাইট জুতো একেবারে বাদ দিন।

·         অনেকের পায়ের পাতা সামনের দিকে বেশ চওড়া। যাকে বলে ব্রড ফ্রন্ট ফিট। এরা সূচলো মুখের জুতো পরলেই সমস্যায় পড়বেন। সামনের দিকের আঙ্গুল চেপে থাকার কারণে অস্বস্তি আর ব্যথায় কাতর হওয়া অবধারিত। তাই অবশ্যই জুতো কেনার সময় দোকানে গিয়ে নিজের জুতো ঠিক মতো দেখে নিন। কোন জুতো জোড়া আপনার পায়ের জন্য আরামদায়ক হবে তা নিজেদেরই ঠিক করতে হবে।

Comfort Should Be Your Fashion For Durga Puja- Ananda Utsav 2017

·         অনেক হাঁটাহাঁটি করতে হলে স্পোটর্স শু সব থেকে ভাল। বিশেষ করে বাচ্চাদের নরম ও অল্প হিলের জুতো পরান।

·         যাদের ফ্ল্যাট ফুটের সমস্যা আছে তাঁদের আর্চ সাপোর্টিং শু পরা উচিত। নইলে অত্যন্ত কষ্টকর অভিজ্ঞতা হবে।

·         হাইহিল টিন এজারদের অত্যন্ত পছন্দের। কিন্তু আমাদের দেশের রাস্তাঘাটের যা অবস্থা তাতে এই ধরনের জুতো পরে বেশি হাঁটাচলা করলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। তাই অল্পস্বল্প ঘোরাঘুরি থাকলে এই ধরনের জুতো ব্যবহার করা গেলেও বেশি হাঁটা বিপজ্জনক। কোমর, পায়ের পাতা ও গোড়ালির ব্যথা শুরু হতে পারে।

Comfort Should Be Your Fashion For Durga Puja- Ananda Utsav 2017

·        জুতো ভাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা চলা করার সময় চোখ কান খোলা রাখা উচিত। নইলে পা মচকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি বৃষ্টিতে পিছল পথ হয় তা হলে সমস্যা আরও বাড়ে। চটি বা জুতো কেনার সময় গ্রিপ আছে কিনা দেখে নিতে হবে।

·         হাই হিল যেমন পায়ের জন্যে খুব ভাল নয়, তেমনই একেবারে ফ্ল্যাট জুতো বা চটিও হাঁটার জন্যে ভাল নয়। জুতোয় ইঞ্চি খানেক হিল থাকলে ভাল হয়। থ্রি ফোর্থ থেকে এক ইঞ্চি হিল যুক্ত চটি বা জুতোর ভেতরের সোলও যেন নরম ও আরামদায়ক হয় সেই দিকে নজর রাখুন। কোলাপুরি জাতীয় স্টাইলিশ চটি পরে বেশি হাঁটাহাঁটি করলে একদিকে ফোস্কা, অন্য দিকে পায়ের পাতায় ব্যথার সমস্যায় ভুগতে হবে।

·         অল্প বয়সীরা না পরলেও বয়স্ক মানুষদের জন্যে স্নিকার জাতীয় জুতো অবশ্যই দরকার। মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে সবারই এই ধরনের স্পোর্টস শু পরা দরকার। এর ফলে আচমকা পড়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে বাঁচবেন। সাধারণত নরম জুতোয় ফোস্কা পড়ে না। তবু সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করার আগে অবশ্যই নতুন জুতোয় কিছুটা অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া ভাল।

·         ইদানীং বিরাট ঘের ওয়ালা পালাজো পরার চল বেড়েছে। জুতোর সঙ্গে সঙ্গে  এমন পোশাক পরা উচিত যে আচমকা পোশাক আটকে পড়ে গিয়ে বিপদ না আসে।

জুতো সৌজন্যে: উডল্যান্ডস।

 

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।