চিন্ময় রায়

লেগে থাকাই সেরা বাজি

চিন্ময় রায়
১২ অক্টোবর, ২০১৭, ০৮:৫৬:২২ | শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর, ২০১৭, ১১:৪৫:৫১
পুজোতে ফিটফাট ঝকঝকে-এই ছিল আপনার থিম। আমার বলা এক্সারসাইজ আর নিয়ম বিধি মেনে আশা করি ‘‘কিরে তোকে তো ব্যাপক লাগছে’’ গোছের কিছু কমপ্লিমেন্ট পেয়েছেন। পাবেনই তো। কথায় আছে-কষ্ট করে কেষ্ট মিলবে। সকালে অন্যরা যখন ঘুমিয়ে পুজোর হুল্লোড়ের স্বপ্ন দেখছে আপনি তখন ঘেমে নেয়ে একাকার।
ওয়ার্কআউট চলতে থাকলে গ্ল্যামারের সঙ্গেই বাই ওয়ান গেট ওয়ানের মতো ফ্রি পাচ্ছেন মনের স্ফূর্তি।

একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি

পুজোর আগে মেহনত করে যে চারাটা পুঁতেছেন সেটা এ বার বড় করার পালা। দীপাবলি আসছে। আলোর হাজার হাজার ওয়াটের মধ্যে আপনার চেহারার গ্ল্যামার আরও আলো ছড়াবে। ওয়ার্কআউট চলতে থাকলে গ্ল্যামারের সঙ্গেই বাই ওয়ান গেট ওয়ানের মতো ফ্রি পাচ্ছেন মনের স্ফূর্তি।

লেগে থাকুন

লাগে রহো মুন্নাভাই। এটাই হোক আপনার এক্সারসাইজের মন্ত্র। পুজোর আগের মাসে সপ্তাহে চার দিন ওয়ার্কআউট করেছিলেন। এ বার একটা দিন বাড়িয়ে নিন। পুজো বোনাস। মোট সময় ছিল ৩৫ মিনিট। সেটা বেড়ে হোক ৪৫ মিনিট। শরীরকে দিন দিওয়ালি গিফট।

পুজোর সার্কিট

বুঝে নিন এক্সারসাইজের ফান্ডা। সার্কিট ট্রেনিংয়ের কথা বলেছিলাম। ওই যে আরশাদ ওয়ার্সিকে মুন্নাভাই সার্কিট বলে ডাকতো। নিশ্চয়ই মনে আছে। পরপর এক্সারসাইজ বিনা বিশ্রামে। জোর বাড়ানোর ওই সার্কিট ট্রেনিং‌ই আপনাকে গ্ল্যামারাসদের সার্কিটে নিয়ে যাবে। বুঝে নিন এক্সারসাইজগুলোর যোগ-বিয়োগের সমাধান। আগে একটা সার্কিট শেষ করতে ৪ মিনিট নিচ্ছিলেন। এখন সাড়ে ৩ মিনিটে শেষ করুন। তিন নয়, মোট চারটে সার্কিট করুন।

Consistency Is The Key To Success- Ananda Utsav 2017

ডাম্বেল স্কোয়াট

স্কোয়াট প্লাস: পুজোর আগে করেছিলেন বডি ওয়েট স্কোয়াট বা ২ লিটারের জলের বোতল হাতে নিয়ে স্কোয়াট। হাঁটু পায়ের পাতার পিছনে রেখে মেরুদণ্ড টানটান করে ৯০ ডিগ্রি বৈঠক দেওয়ার সময় পিছনে চেয়ার রেখেছিলেন। ভঙ্গিমা ঠিক রাখার জন্য। এখন চেয়ারটা বাদ দিন। যোগ করুন দু’হাতে ৩ থেকে ৫ কেজির একজোড়া ডাম্বেল। এত দিন জলের বোতল নিয়ে টানলেন। সুতরাং ডাম্বেল কেনার মোটিভেশন এ বার এসে গেছে। বাজেট না থাকলে একজোড়া ইঁট নিয়ে করুন। মোট ১২ বার। পেশীকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেশি ধকল দিতে হবে। তবেই না পেশী সুঠাম হবে।

Consistency Is The Key To Success- Ananda Utsav 2017

সুইসবল প্লাঙ্ক

পালটাক প্লাঙ্ক: মেরদণ্ড থাকবে এক সরলরেখায়। উপুড় হয়ে দুই কনুই আর পায়ের পাতায় ভর দিন। শরীর মাটির সঙ্গে সমান্তরাল রেখে শূন্যে ধরে রাখুন। এই হল প্লাঙ্কের ফর্মুলা। দুই দুগুণে চারের মতোই জলভাত। তা হলে তিনের নামতায় যাওয়া যাক। মোটিভেশনের গল্প শুনেইছেন। ডাম্বেল কেনার দোকান থেকেই একটা সুইস বলও কিনুন। বিরাট বেলুনের মতো হাওয়া ভর্তি বলটা সত্যিই পেটের গভীরের পেশীর জোর আর মেরুদণ্ডের সুস্বাস্থ্যের জন্যে দারুণ ইনভেস্টেমন্ট। ভঙ্গিমা একই রকম রেখে প্লাঙ্ক শুধু সুইস বলের উপর করুন। সময় ওই ৩০ সেকেন্ড। যাদের বল কেনার বাজেট নেই তারা হতাশ হবেন না। আপনারা করুন প্লাঙ্ক অ্যান্ড আর্ম রিচ। ওই প্লাঙ্কের অবস্থান থেকে পর্যায়ক্রমে একবার ডান হাত, তারপর বাঁ হাত সামনে বাড়ান। যেন কিছুর নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করছেন। দু’হাতেই ১২ বার করে মোট ২৪ বার করুন।

Consistency Is The Key To Success- Ananda Utsav 2017

গেট আপ ইন স্টেপ আপ

গেট আপ ইন স্টেপ আপ: সিঁড়িতে একবার ডান তারপর বাঁ বায়ে ওঠানাম করেছিলেন। এ বার প্রথম সিঁড়িটা থেড়ে দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠুন আর নামুন পা বদলে। হাতে থাকুক ডাম্বেল। না থাকলে একজোড়া ইঁটেই মুশকিল আসান। ১২ বার ওঠানামা, দু’পা মিলিয়ে ২৪ বার। মনে রাখবেন পায়ে রয়েছে বড় বড় পেশী। পায়ের ব্যায়ামে বেশি ক্যালোরি ঝরে। পায়ে পায়ে পুজো দেখার শক্তি বাড়ে।

Consistency Is The Key To Success- Ananda Utsav 2017

ডায়নামিক সাইড প্লাঙ্ক

ডায়নামিক সাইড প্লাঙ্ক: আগে পাশাপাশি শরীরটা একটা কনুই আর এক পায়ের পাতায় ভর রেখে শূন্যে ধরে থাকছিলেন। যেটাকে বলা হয় স্ট্যাটিক হোল্ড। এখন জীবনের নিয়ম মেনে এগিয়ে চলুন। মানে ডায়নামিক। পাশাপাশি কোমরটা নামান আর ওঠান। একদম ধীর নিয়ন্ত্রিত মোশন। কাঁধ, কোমর, পা এক সরলরেখায় রেখে যত ধীরে কোমর নামাবেন ওঠাবেন তত বেশি ফল পাবেন। দু’দিকেই মোট ১২ বার করুন।

Consistency Is The Key To Success- Ananda Utsav 2017

পুশ আপ অ্যান্ড শোল্ডার ট্যাপ

পুশ আপের লেভেল আপ: সবচেয়ে পরিচিত এই ব্যায়ামের নিয়মের কচকচিতে আর গেলাম না। কালিপটকা থেকে চকোলেট বোম ফাটানোর মতো সাহস তো আনতে হবে। তবে পুশ আপ থেকে পুশ আপ আর শোল্ডার ট্যাপ কেন নয়? মানে পুশ আপ করে মাটি থেকে ওঠার সময় একটা হাত মাটি থেকে তুলে উল্টো কাঁধে স্পর্শ করে আবার মাটিতে নিয়ে আসুন। একবার বাঁ, তারপর ডান হাত। মোট ১২-১৪টা পুশ আপ। মেয়েরা হাঁটু ভেঙে পুশ-আপ দিচ্ছিলেন। এখন ছেলেদের মতো মায়ের পাতায় ভর রেখে চেষ্টা করুন। না পারলে হাঁটু ভেঙেই শোল্ডার ট্যাপ। বুকের ছাতি চওড়া মানেই কনফিডেন্ট লুক।

Consistency Is The Key To Success- Ananda Utsav 2017

লেগ অ্যাবডাকশন

হাওড়ার বদলে হুগলি ব্রিজ: মাটিতে চিত্ হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাঁটু ভাঁজ। এক হাঁটুতে ভর রেখে কোমর শূন্যে রাখা। ব্যায়ামের নাম? এক পায়ে ব্রিজ। ব্রিজটা আধুনিক মানের হোক। শূন্যে থাকা পা সোজা করেই পাশাপাশি সাধ্য মতো শরীর থেকে দূরে সরান। পরিভাষায় বলে লেগ অ্যাবডাকশন। দু’ দিকেই ১২ বার করে। সুইসবল থাকলে কথাই নেই। শুধু ভাঁজ করার বদলে এক পা সোজা করে বলে রেখে অন্য পা পাশাপাশি সরান।

সপ্তাহে একদিন বাদে একদিন জোর বাড়ানোর সার্কিট চলুক। আর দু’দিন করুন দৌ়ড়, জগিং বা হাঁটার কার্ডিও। আগে ২০ মিনিট করে করেছিলেন। এ বার সময়টা বাড়িয়ে করুন ২৫ মিনিট। ২ মিনিট দৌ়ড় বা জগিং বা জোরে হাঁটা। তারপর ১ মিনিট ধীরে হাঁটা। দৌড়, জগিং বা হাঁটার কঠিন পর্বটা ৩ মিনিট, ২ মিনিট, ৯০ সেকেন্ড, ১ মিনিট-এ রকম ভাবে হেরফের ঘটান।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।