হেঁটে ঠাকুর দেখলে পিঠ কোমরের ব্যথা জব্দ

সুমা বন্দ্যোপাধ্যায়
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১৫:০০:০৭ | শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:১৩:৩৬
পুজোর দিনগুলোয় প্যান্ডেল হপিং না করলে বছরটাই যেন পানসে লাগে। ভিড় উপচে পড়া পথে গাড়ি চলার জায়গা কই! অগত্যা ভরসা চরণযুগল। কিন্তু পিঠ আর কোমরের ব্যথা নিয়ে হাঁটাহাঁটি করলে ভোগান্তি যদি বাড়ে! দুশ্চিন্তার হাত থেকে মুক্তির পথ বাতলালেন অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জেন সৈকত সরকার।
পুজোর দিনগুলোয় প্যান্ডেল হপিং না করলে বছরটাই যেন পানসে লাগে।

শুরু হয়েছে কাউন্টডাউন। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। দেবীপক্ষের সূচনা থেকেই চলছে প্রতিমার আবরণ উন্মোচন। কাজের মধ্যেই চুটিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের বাজার। কিন্তু মাঝে মাঝেই বাদ সাধছে কোমর আর পিঠের ব্যথা। তা হলে কি ঠাকুর দেখতে বেরোলে বিপদে পড়তে হবে! দিনভর কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ অথবা টিভি দেখা। বাড়ি থেকে বেরিয়েই গাড়ি চড়ে অফিস যাওয়া। শহর মফস্সল নির্বিশেষে বাচ্চা থেকে তাঁদের দাদু, ঠাম্মা প্রায় সকলেরই একই রুটিন। এর ফলস্বরূপ কোমর, পিঠ বা ঘাড়ের ব্যথায় কাতর তো হতেই হবে। স্লিপ ডিস্ক ছাড়া শিরদাঁড়ার অন্যান্য ব্যথা জব্দ কিন্তু হাঁটায়। তাই ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে হাঁটতে পারেন অনায়াসেই। আর তার মহড়া শুরু হোক এখন থেকেই।

Pandal Hopping Can Help You Beat Back Pain- Ananda Utsav 2017

বিশ্রাম অপ্রয়োজনীয়

প্রথমেই জেনে রাখুন ব্যথা-বেদনার ভয়ে জড়সড় হয়ে বসে থাকলে ব্যথা আরও চেপে ধরে। আগেকার কনসেপ্ট ব্যথা হলেই নট নড়নচড়ন এখন বাতিল। বরং যত বেশি মুভমেন্ট হবে, ততই রক্ত চলাচল বাড়বে আর ব্যথা হবে জব্দ। আসল ব্যাপারটা হল ঠিক ভাবে রক্ত চলাচলের অভাবে ব্যথা বাড়ে। এক্সারসাইজ ও নিয়ম করে হাঁটাহাঁটি করলে রক্ত চলাচলের গতি বেড়ে গিয়ে ব্যথার সমস্যার হাত থেকে মুক্তি মেলে।

Pandal Hopping Can Help You Beat Back Pain- Ananda Utsav 2017

ভুল ভঙ্গিমাই ব্যথা ডেকে আনে

ঘাড়, পিঠ বা কোমরের ব্যথার মূলে আছে এক্সারসাইজের অভাব আর ভুল ভঙ্গিমায় কাজকর্ম করা। অর্থাৎ, কম্পিউটারের মনিটরের সঙ্গে হাত, চোখ বা ঘাড়ের সাযুজ্য না থাকলে ঘাড়, কাঁধ আর পিঠের ব্যথা অবধারিত। বসা, শোওয়া সবই যদি ভুল ভঙ্গিতে হয় তবে অল্প বয়স থেকেই শরীর জুড়ে ব্যথা হবে। আর নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করলে ব্যথা জব্দ হবেই। তবে হ্যাঁ, ব্যথা হলেই ওষুধ খেয়ে কমানোর চেষ্টার মতো বদ অভ্যাস করবেন না। জেনে রাখুন আমাদের দেশের লিভারের অসুখের অন্যতম কারণ ব্যথার ওষুধ খাওয়া। তাই ব্যথা হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান, প্রয়োজনে টেস্টও করান, কিন্তু সেলফ মেডিকেশন করবেন না। ঠাকুর দেখার জন্য হাঁটাহাঁটিতে কোনও বাধা নেই। যাদের ঘাড়ে, কোমরে, হাঁটুতে বা পিঠে খুব ব্যথা, প্রয়োজন হলে নিক্যাপ ও বেল্ট বা কলার পরতে পারেন। তবে রাস্তায় হাঁটাচলার সময় পরলেও রাত-দিন এই সব কলার বা বেল্ট পরে থাকলে পেশি ক্রমশ অলস হয়ে পড়ে। ফলে ব্যথার প্রকোপ বাড়তে পারে। পেটের পেশি বা অ্যাবডমিনাল মাসল দূর্বল হয়ে গেলে পিঠের ব্যথার কষ্ট বেড়ে যায়। তাই পেটের ব্যায়াম করে পেশি মজবুত করলে আর সমস্যায় পড়তে হয় না।

Pandal Hopping Can Help You Beat Back Pain- Ananda Utsav 2017

হাঁটলেই জব্দ ব্যথা

যারা পিঠ বা কোমরের ব্যথার ভয়ে ঠাকুর দেখতে যেতে ইতস্তত করছেন, তাঁরা জানলে খুশি হবেন যে নিয়মিত হাঁটা অভ্যাস করলে ব্যথা পালাতে পথ পায় না। অবশ্য যাদের অস্টিওপোরোসিস আছে তাঁরা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। নিয়ম করে হাঁটলে পায়ের পেশির পাশাপাশি শিরদাঁড়া ও পেটের পেশিতেও রক্ত চলাচল বেড়ে গিয়ে ব্যথা-বেদনা চলে যায়। তাই যাঁরা এখনও হাঁটতে শুরু করেননি, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে ঠাকুর দেখেই শুরু করুন হন্টন। চলুক পুজোর পরেও। আগামী বছর পুজোর আগে আর ব্যথার ভয়ে ঠাকুর দেখতে না পাওয়ার চিন্তা মাথাতেও আসবে না। ঠাকুর দেখুন মনের আনন্দে, ভাল থাকুন।

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।