চিন্ময় রায়

পুজো আসছে, রেডি স্টেডি গো

চিন্ময় রায়
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১৪:২২:২০ | শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:১৪:১৪
হাতে আর মাত্র কয়েকটি দিন। ফিট হতে হবে তো! হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন চিন্ময় রায়।
বুকের অংশ ৩৪ আর কোমর ৩২ মানে পুজোয় একদম হিট।

পাড়ার জিমগুলোতে খবর নিন। নতুন মেম্বার রোজ চড়চড়িয়ে বাড়ছে। কারণ? আরে পুজো আসছে যে!

বয়স কুড়ি হোক বা চল্লিশ, পুজোমণ্ডপে হাজার হাজার ওয়াটের আলোয় নিজের শরীরটা সবাই ঝকঝকে দেখতে চান। শুধু নতুন পোশাক পরলেই কি হল। বুকের অংশ ৩৪ আর কোমর ৩২ মানে পুজোয় একদম হিট। বুক, বাইসেপ, ট্রাইসেপ অথবা পেট কি কোমর-ছিপছিপে লিন লুক বা মাসল হাঙ্ক— যেটাই চান তার জন্য আর দেরি নয়। শুরু করব কি করব না, এই দোটানা আর নয়। রেডি স্টেডি গো...

কম চাইলেই বেশি পাবেন

আপনার হাতে এক মাসও নেই।গোড়াতেই ঠিক করে নিন আপনার চাহিদা কী। ধরে নেওয়া যাক আপনি এক্সারসাইজের ব্যাপারে অনিয়মিত। মানে ওই পুজো বা উত্সবের মরসুম এলে এক্সারসাইজ করেন। এ ক্ষেত্রে আপনার চাহিদা রাখুন সীমিত। কখনই সলমন বা দীপিকার মতো শরীরের স্বপ্ন দেখবেন না। ব্যায়ামের প্রাপ্তি বেশি হবে যদি চাহিদা কম হয়।

ওজন কমাতে ওজন তুলুন

গড়পরতা মানুষের প্রধান লক্ষ্য হল ওজন কমানো আর পেটটা টানটান দেখানো। মোটামুটি এটা করতে পারলেই নিজেকে অনেকটা ফিট দেখাতে পারবেন। ঘটনা হল, কী ভাবে সেই লক্ষ্যপূরণ হয় সেটা জানা নেই। ওজন কমানো আর শরীর টানটান দেখানোর সেরা বাজি হল ওজন নিয়ে ব্যায়াম। সমস্যা হল ওজন নিয়ে ব্যায়ামের ক্ষেত্রে ট্রেনারের নজরদারি দরকার। টেকনিক, পসচার শেখা জরুরি। সেটা সম্ভব না হলে নিজের শরীরের ওজন নিয়েই শুরু করুন। কিছু ন্যূনতম নিয়ম মাথায় রাখুন। বিজ্ঞান বলছে শরীরে পেশীতন্তু বাড়লেই অ্যাডিপোজ টিস্যু বা ফ্যাট কমবে।

সার্কিটের ফান্ডা

সার্কিটের অর্থ হল একটার পর আর একটা ব্যায়াম পর পর করা। মাঝে কোনও বিশ্রাম নেই। মোট ৬টা ব্যায়াম শেষ করতে হবে ৩ মিনিটের মধ্যে। হ্যাঁ, এটাই চ্যালেঞ্জ। খুব বেশি হলে ৪ মিনিট। সার্কিট পদ্ধতিতে এক সঙ্গে জোর বাড়ে আবার কার্ডিও এফেক্ট আসে। মোট ৪টি সার্কিট পুরো করুন। এক বার করার পর ৩-৪ মিনিট বিশ্রাম নিন। ওজন হিসেবে ২ লিটারের জলভর্তি বোতল বা ৩-৪ কেজি ডাম্বেল ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যায়ামের নামচা

স্কোয়াট: সহজ কথায় বৈঠক। এখানে মেরুদণ্ড টানটান রাখা আর হাঁটু ভাঁজ করে মেঝের সমান্তরাল বসা, এই দুটো হল মূল মন্ত্র। সামনে ঝোঁকা ঠেকাতে একটা টুল টেনে নিন। বসার সময় নিশ্চিত করুন যাতে আপনার নিতম্ব টুল স্পর্শ করে। বার বার করুন।

Ready Steady Go-Ananda Utsav 2017

প্লাঙ্ক: খুব পরিচিত ব্যায়াম। দুই কনুই আর দুই পায়ের পাতায় ভর রেখে উপুড় হয়ে শরীরটা শূন্যে ধরে খাতা। খুব সহজে করতে পারলে এক পায়ে রেখে করুন। এখানেও মেরুদণ্ড টানটান রাখুন। পেটটা ভিতরের দিকে টানুন কিন্তু শ্বাস স্বাভাবিক রাখবেন। পেটের গভীরের পেশী কাজ করলে পেট টানটান হবে। ৩০ সেকেন্ড করুন।

Ready Steady Go-Ananda Utsav 2017

স্টেপ আপ: বাড়ির সিঁড়ি অথবা দেড় ফুটের একটা টুলে পর্যায়ক্রমে এক বার ডান তারপর বাঁ পায়ে ভর দিয়ে ওঠা-নামা হল স্টেপ-আপ। এখানেও পিঠ টানটান রেখে ওঠানামা করুন। দুপায়ে ১২ বার করে।

Ready Steady Go-Ananda Utsav 2017

সাইড প্লাঙ্ক: এ বার পাশ ফিরে শুয়ে যান। একটা কনুই আর সে দিকের পায়ে ভর রেখে পাশাপাশি শরীরটা শূন্যে তুলে ধরুন। মেরুদণ্ড টানটান রাখার মন্ত্রটা মনে করুন। দু’পাশেই করবেন ৩০ সেকেন্ড করে। সহজ মনে হলে উপরের হাতে একটা ২ লিটারের জলভর্তি বোতল ধরে রাখুন।

Ready Steady Go-Ananda Utsav 2017

পুশ আপ: এটাও পরিচিত ব্যায়াম। কাঁধ সমান চওড়া ফাঁক রেখে দু’হাতে এবং দু’পায়ের পাতায় ভর দিয়ে শরীরটা মাটির দিকে নামান আর উপরে তুলুন। মনে রাখবেন, কোমর যেন নীচে না নামে। মানে মেরুদণ্ড যেন এক সরলরেখায় থাকে। মেয়েদের অসুববিধা হলে হাঁটুতে ভর রেখে বা দাঁড়িয়ে দেওয়ালে পুশ আপ দিতে পারেন। ১২-১টা পুশ আপ দিন।যাঁরা সহজে পুশ আপ পারছেন তাঁরা এক পায়ে ভর দিয়ে পুশ আপ দিন।

Ready Steady Go-Ananda Utsav 2017

এক পায়ে ব্রিজ: চিত হয়ে মাটিতে শুয়ে হাঁটু ভেঙে এক পায়ে ভর রেখে কোমরটা মাটি থেকে শূন্যে ধরে রাখা হল এক পায়ে ব্রিজ। বুক, কোমর আর হাঁটু এক সরলরেখায় রাখুন। ২০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, সহজ মনে হলে কোমরটা ওঠান আর নামান ১২ বার। দু’পায়ে করবেন।

Ready Steady Go-Ananda Utsav 2017

সপ্তাহে এক দিন বাদ দিয়ে পর দিন এই পর্যায়ে জোর বাড়ানোর সার্কিট করুন মোট ৪ দিন। দু’দিন করুন ২০ মিনিটের ইন্টারভ্যাল দৌড় বা হাঁটা। ১ মিনিট দৌড়বেন, ১ মিনিট জগিং করবেন বা হাঁটবেন। লম্বা দৌড় বা হাঁটার গল্পে যাবেন না। তেল, মিষ্টি, ফাস্টফুড, আইসক্রিম, কোলা বাদ দিয়ে প্রোটিন, সব্জি, ফল এই সব খাবার খান। ঠিকঠাক খাবার বাছাটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

ছবি: লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।
সকলকে সাজিয়ে তুলতে দিওয়ালির সম্ভার নিয়ে হাজির ডিজাইনার শান্তনু গুহ ঠাকুরতা।