সময়ের অভাবেও কী ভাবে বিজয়া সারবেন

মধুবন্তী রক্ষিত
১২ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:৩৬:৪২ | শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর, ২০১৬, ০৪:৫৮:০৭
bijoya

পুজো আসছে, পুজো আসছে…পুজো শেষ। এ বার শুরু বিজয়ার পালা। এ দিকে আবার অফিস, কাজ, সবই পুরো দমে শুরু হয়ে উঠেছে। সেই পুরনো জং ধরা রুটিনে ফিরে যাওয়া। বাঁধা ধরা সেই নিয়ম পুরোপুরি আঁকড়ে ধরার আগেই সেরে ফেলতে হবে বিজয়া। বাবা, কাকাদের মতো আপনার হয়তো সবাইকে আলাদা করে বাড়িতে গিয়ে প্রণাম, শুভেচ্ছা জানানোর উপায় নেই। কিন্তু বিজয়া না সারাটাও যেন অসম্পূর্ণ। মনটা খুঁতখুঁত করতে থাকে। হাত সময় অল্প, এ দিকে বিজয়া সারতে হবে প্রচুর। তাহলে উপায়?

তবে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিজয়া সারতে আর সব জায়গায় শশরীরের হাজির হতে হয় না। ফেসটাইম, স্কাইপ, ভাইবার ইত্যাদি ভিডিও কলিং সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে আপনি দূরে থেকেও পরিবারের বড়দের, আত্মীয়দের বিজয়ার শুভেচ্ছা, প্রণাম জানাতে পারেন। তেমন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নয় তবু কর্তব্য তো থেকেই যায়। পুজো শেষেই আপনার ফোনের ইনবক্সে ভিড় করে আছে বিজয়ার  হাজারটা  ছোটখাট  কবিতা, শুভেচ্ছাবার্তা। চলতি ভাষায় যাকে ফরওয়ার্ডেড টেক্সট মেসেজ বলে। এর মধ্যে থেকে মানানসই কিছু বেছে নিয়ে পাঠিয়ে দিন এসএমএস অথবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। এ ছাড়া ফেসবুক, ইমেল, মেসেজিং তো আছেই। সুন্দর মানানসই ছবির সঙ্গে শুভেচ্ছা জানিয়ে পাঠিয়ে দিন। সময় থাকলে পরে ফোন করে কথা বলে নিন।

Special Article On Bijoya Plan After Durga Puja-Ananda Utsav

কলকাতা বা নিজের শহরে অনেকের সঙ্গেই দেখা হয় এই বিজয়ার অজুহাতে। কিন্তু অফিস, চাকরির জন্য সকলের বাড়িতে আলাদা করে যাওয়া হয়তো সম্ভব হয়ে ওঠে না। চিন্তা করবেন না। একটা ভাল দিন বেছে দুপুরে বা রাতের খাবারের জন্য ডেকে নিন সকলকে নিজের বাড়িতে। আত্মীয়স্বজনদের আমন্ত্রণ করে নিজে রেঁধে নয়তো ভাল কোনও রেস্তোরাঁ থেকে আনিয়ে পালন করুন ঘরোয়া বিজয়া সম্মীলনী। বড় থেকে ছোট সকলে এক সঙ্গে এক ছাদের তলায় আরেক বার আনন্দ উদযাপন করুন। থাকুক আড্ডা, গান, গল্পের আসর। এখনও তো পুজোর হ্যাংওভার কাটেনি। তাই এই অজুহাতে আরেকটা বেলা না হয় কাটুক একটু আনন্দ করে। পুরনো দিনের পুজোর গল্প থেকে শুরু করে ‘ক’টা ঠাকুর দেখা হল’ এই সব নিয়ে মেতে থাকতে থাকতেই সেরে ফেলুন বিজয়ার পালা।

বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে বিজয়া করতে প্ল্যান করে চলে যেতে পারেন কোনও রেস্তোরাঁয়া। মিষ্টি, দই এই বছরটা থাক না। অফিসের পর সবাই মিলে দেখা করতে পারেন কোনও পাব অথবা রেস্তোরাঁয়। বিজয়ার উল্লাসে কাটিয়ে দিন সন্ধেটা।Special Article On Bijoya Plan After Durga Puja-Ananda Utsav

 

আজকাল শহরে শহরে ফুল, মিষ্টি, কার্ড পাঠানোর প্রচুর সুব্যবস্থা হাজির হয়েছে। বাড়িতে বসেই অনলাইনে শহর বা দেশের যে কোনও প্রান্তে পাঠিয়ে দিন বিজয়ার ফুল, মিষ্টি। তার সঙ্গে থাকুন পার্সোনালাইজড শুভেচ্ছাবার্তা লেখা কার্ড। পরে আপনি ফোন করে নিতে পারেন নিজের সুবিধা মতো।

যদি চান তাহলে বিশেষ কাছের মানুষদের জন্য নিজে হাতে চিঠি লিখে স্পিড পোস্টে পাঠিয়ে দিন। অভিনব উপায়ে বিজয়া জানিয়েই তাক লাগিয়ে দিন আপনার আত্মীয় স্বজনদের। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে হঠাত্ হাতে লেখা চিঠি পেয়ে খুশি হয়ে যাবেন যে কোনও কেউই।

এই সব উপায় তো গেল। কিন্তু সেই ছোটবেলার মতো বাড়িতে হাতে মিষ্টির বাক্স নিয়ে যাওয়া আর প্রাণ ভরে ভালবাসা, আশীর্বাদ নেওয়াকে আজও কোনও তথ্যপ্রযুক্তি বা শর্টকাট হারাতে পারে না। বিশেষ করে সেই বয়ঃজেষ্ঠ্যদের আন্তরিকতাকে কোনও প্রযুক্তিই হারাতে পারেনি। তাই একটু কষ্ট করে হলেও সময় করে চলে যান সেই মানুষগুলোর কাছে। আর তাদের মুখে ফুটিয়ে তুলুন সেই অনাবিল হাসি। 

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।
সকলকে সাজিয়ে তুলতে দিওয়ালির সম্ভার নিয়ে হাজির ডিজাইনার শান্তনু গুহ ঠাকুরতা।