পুজোর বাজারে গিয়ে কিন্তু বুঝে খেতে হবে

সুমা বন্দ্যোপাধ্যায়
২১ অগস্ট, ২০১৭, ১৭:৩৪:৩৮ | শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:১৩:৫৮
আনন্দে মেতে উঠে অনিয়ম করলেই শরীর গড়বড় করার সম্ভাবনা প্রবল। পুজোর সময় ভাল থাকার উপায় জানালেন কলম্বিয়া এশিয়া হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রণবীর চৌধুরী।
ছবি: অনির্বাণ সাহা

উত্তরের নদী-নালা জলে ভরো ভরো। মানুষের ভোগান্তি চরমে। কিন্তু সময় তো বহতা নদীর মতোই। তাই মেঘ সরিয়ে ঝলমলে রোদ্দুর উঁকি দিলে আকাশে বাতাসে পুজো পুজো আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছে। জমে উঠেছে পুজোর বাজারও।

তবে, আনন্দে মেতে উঠে অনিয়ম করলেই শরীর গড়বড় করার সম্ভাবনা প্রবল। পুজোর সময় ভাল থাকার উপায় জানালেন কলম্বিয়া এশিয়া হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রণবীর চৌধুরী।

‘কম খেলে নাহি খেদ, বেশি খেলে বাড়ে মেদ’— হীরক রাজার এই ঐতিহাসিক উক্তির সমর্থনে গলা  মিলিয়েছেন অনেকেই। পুজোর বাজার করতে বেরিয়ে যত্রতত্র যা খুশি তাই খেলে মন ভরে বটে, কিন্তু শরীর বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ষোলোআনা। উৎসবের দিনে অসুস্থ থাকা মোটেও কাজের কথা নয়। একটু সতর্কতা, আর দু’একটি নিয়ম পালন করলেই ভাল থাকবেন। বিশেষ সাবধানতা নিতে হবে এক্সট্রিম এজ গ্রুপের মানুষদের জন্যে। বাচ্চা অথবা তাদের ঠাম্মা, দিম্মা— এদের ছাড়া পুজোর বাজার জমে নাকি!

তবে হ্যাঁ, জেন এক্সদের মতো ‘ভোজনং যত্রতত্র’ করলেই বিপদ। আর দিনভর হট্ট মন্দিরে থাকলেও চলবে না। বাজারহাট সবই করুন সপরিবারে, কিন্তু অবশ্যই নিয়ম মেনে। এ বারে একে একে নিয়মগুলি জেনে নেওয়া যাক।

Stay Away From Fast Food During Puja Shopping-Ananda Utsav 2017

  • বাড়ির বাইরে গেলে অবশ্যই সঙ্গে পানীয় জল নেবেন। বাচ্চা বা বয়স্ক মানুষ সঙ্গে থাকলে তো বটেই, নিজেরাও যত্রতত্র জলপান থেকে বিরত থাকবেন। জলবাহিত বিভিন্ন পেটের সংক্রমণ যে কোনও মানুষকেই কাবু করে ফেলতে পারে। ইদানীং টাইফয়েডের প্রবণতা বাড়ছে। তাই শিশুদের ভ্যাকসিন দিয়ে রাখতে পারলে ভাল হয়। যারা ডায়বিটিস, এসএলই, রিউমাটয়েড আর্থাইটিস, সিওপিডি সহ নানান ক্রনিক রোগে আক্রান্ত তাঁদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় টিকা দিয়ে নেওয়া দরকার।
  • পেটের রোগের সঙ্গে সঙ্গে বর্ষার জমা জলে মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে বিস্তর। আর এদের শরীরে ঘাপটি মেরে বসে আছে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার জীবাণু। তার সঙ্গে সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সোয়াইন ফ্লু-র সংক্রমণজনিত জ্বরের সম্ভাবনাও কম নয়। তাই মশার হাত থেকে রেহাই পেতে জন্যে সুতির ফুলহাতা জামা পরতে হবে। সন্ধেবেলা মশার ঝাঁক খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। ওদের হাত এড়াতে না পারলেই বিপদ। আর বাড়িতে কোথাও জল জমতে দেবেন না। বাড়ির জমা জলও মশার আঁতুড় ঘর হতে পারে।
  • শপিং-এ গেলে বাইরের মুখরোচক খাবার খাওয়ার জন্যে মনটা আকুলিবিকুলি করে। রাস্তার রোল চাওমিন বা ঝালমুড়ির থেকে পরিচ্ছন্ন দোকানের খাবার অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। সাধারণ স্যান্ডউইচে যে মেওনিজ ব্যবহার করা হয়, তাতে কাঁচা ডিমের সাদা অংশ মেশানো থাকে। এর থেকে সালমোনেল্লা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। গ্রিলড স্যান্ডউইচ খান। ভাজাভুজির থেকে গ্রিল করা বা রোস্ট করা খাবার অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত।
  • সন্ধ্যাবেলা বাইরে থেকে একগাদা খেয়ে এলে রাতের খাবার বাদ দিন। বারে বারে অনেকটা খাবার খেলে বদহজমের সম্ভাবনা বাড়ে।
  • খাবার খান প্রয়োজন মতো। বাড়তি খাবার শুধুই যে হজমের অসুবিধা ডেকে আনে তা নয়, দিন দিন ওজন বাড়ায়। বাড়তি ওজন মানেই মেটাবোলিক সিন্ড্রোমের শুরু। হাজারও লাইফস্টাইল ডিজিজের এক এক করে লাইন দিয়ে আনাগোনা। আর মনের মতো পোশাকও মানাবে না। সুতরাং, ওজন বুঝে ভোজন করাই কাম্য নয় কি!
  • পুজোর সময় ঝকঝকে ত্বক ও চেহারার জন্যে চাই সুষম আহার। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান জরুরি। বোতলবন্দি পানীয়ের বদলে সাদা জলই বেশি স্বাস্থ্যকর।
  • স্মোকিং-সহ যে কোনও তামাকই অকালে বুড়িয়ে দেয়। ভুলবেন না যেন। বরং এই বারের পুজোয় শপথ নিন তামাককে জীবনের খাতা থেকে গেট আউট করার।

স্ট্রেস কমাতে শপিং দারুণ কার্যকর। জমিয়ে বাজার করুন কিন্তু বাজারের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। আর মধ্য রাত পর্যন্ত পার্টি না করে চটপট ঘুমিয়ে পড়ুন। কম ঘুম এক দিকে কাজের গতি স্লথ করে দেয় অন্য দিকে নানান শারীরিক সমস্যা ডেকে আনে। ফূর্তিতে থাকুন, ভাল থাকুন। 

 

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।