দীপাবলিতে অম্লান সাবেক প্রদীপের শিখা

বিভূতিসুন্দর ভট্টাচার্য
২৮ অক্টোবর, ২০১৬, ২১:২৫:৫৭ | শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর, ২০১৬, ০৫:৫৫:২৩
রাইস, লেজার কিংবা এলইডি-র দাপট যতই বাড়ুক না কেন এখনও অম্লান প্রদীপের শিখা। বৈদ্যুতিক আলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মোমপ্রদীপ ও ফ্যান্সি প্রদীপের চাহিদা। 
শপিং মল বা অনলাইন শপিং। কিংবা বাজারের আটপৌরে সেই দোকান। এখন সর্বত্র মিলছে মোমপ্রদীপ আর শৌখিন মাটির প্রদীপ। কখনও রাংতার মোড়কে, কখনও বা চুমকি, কাচপুতি, আয়নার ব্যবহারে এগুলি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। আগে মূলত অবাঙালি ক্রেতারা কিনলেও, এখন বাঙালিরাও সমান ভাবে কিনছেন এই প্রদীপ।
মোমপ্রদীপ ব্যবহার করা সোজা। এতে পলতে পাকিয়ে, তেল দেওয়ার ঝামেলা নেই। তাই কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে দীপাবলি উঁকি দিলেও চিন্তার কিছু নেই। অন্য দিকে, নানা আকৃতির শৌখিন মাটির প্রদীপ সকলেরই নজর কাড়ে। তাই দীপাবলির সন্ধ্যায় অনেকেই পছন্দ করেন ঐতিহ্য মেনে পলতে পাকিয়ে তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বালতে।
কুমোরটুলির প্রদীপ ব্যবসায়ী কল্পনা দাস বলছিলেন, গত কয়েক বছর মোমপ্রদীপের চাহিদা বেশি ছিল। তবে এ বছর মাটির প্রদীপেরও ভাল চাহিদা রয়েছে। কারণ, তার আকর্ষণীয় রূপ। প্রতি বছর ক্রেতাদের মন রাখতে নতুন ডিজাইনের প্রদীপ তৈরি করা হয়। এ ছাড়া অনেকেই খোঁজ করেন এমন প্রদীপ যা বেশি ক্ষণ জ্বলবে। পাশাপাশি রয়েছে নতুন ধরনের মোমপ্রদীপের চাহিদাও। এর মধ্যে আরতি প্রদীপ, ‘ফ্লোটিং ক্যান্ডেল’-ও উল্লেখযোগ্য। অন্য এক ব্যবসায়ী সুবীর পাল জানালেন, মোমপ্রদীপের পাশাপাশি তেলপ্রদীপেরও সমান চাহিদা রয়েছে। এ বছরের আর এক আকর্ষণ ঘি প্রদীপ। যা তৈরি গাওয়া ঘি আর কর্পূরের মিশ্রণে। কিছুটা অন্য সুর শোনা গেল প্রদীপ ব্যবসায়ী দিলীপ মাঝির কথায়। তাঁর মতে, ক্রমেই বাড়ছে মোমপ্রদীপের চাহিদা। কারণ তা ব্যবহার করা সহজ। তবে চাহিদা থাকায় মোমপ্রদীপ মাটির প্রদীপের আগেই বিক্রি হয়ে যায়। তবে শুধু এ শহরে নয়, এর চাহিদা রয়েছে বিদেশেও।
সেই আশির দশক থেকে প্রতি বছর দীপাবলির সময় প্রদীপ কিনতে কুমোরটুলিতে আসছেন অরুণকুমার বজাজ। তিনশো প্রদীপ কিনে বাড়ি ফেরার পথে তিনি জানালেন, বৈদ্যুতিক আলো বাজারে যতই ছেয়ে যাক না কেন, দীপাবলিতে মাটির প্রদীপের ব্যবহার কমেনি। কেননা, এর সঙ্গে মিশে আছে সাবেক ঐতিহ্য আর ভাললাগা। তাই বছরে একটা দিন একটু কষ্ট করতে আপত্তি নেই। তেমনই মোমপ্রদীপ কিনতে এসে প্রমিতা রায় বলছিলেন, ‘‘এতে ঝামেলা কম, দেখতেও আকর্ষণীয়। তাই ভাল লাগে।’’
কুমোরটুলি কিংবা বিধাননগরের খালপাড় ছাড়াও প্রদীপের বেচাকেনা চলে বৌবাজার, শিয়ালদহ, যদুবাবুর বাজার, লেকমার্কেট, গড়িয়াহাটেও। এই সব প্রদীপ আসে বারাসত, দত্তপুকুর, বনগাঁ এবং বিধাননগরের খালপাড় থেকে।
দক্ষিণ কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের একটি শপিং মলে দেখা গেল, মজুত রয়েছে মোমপ্রদীপের পাশাপাশি রাখা ফ্যান্সি মাটির প্রদীপও। ক্রেতাদের পছন্দ জানতে চাইলে যোধপুর পার্কের বাসিন্দা রূপা চৌধুরী বললেন, ‘‘মোমপ্রদীপে ঝামেলা কম। এতে প্রদীপের ঐতিহ্যও বজায় থাকে আবার কিছুটা সময়ও বাঁচে।’’ তাই মোমপ্রদীপ হোক বা তেলপ্রদীপ, ক্রেতাদের পছন্দই বলবে শেষ কথা।
ছবি: সংগৃহীত।

সর্বশেষ সংবাদ

ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।
সকলকে সাজিয়ে তুলতে দিওয়ালির সম্ভার নিয়ে হাজির ডিজাইনার শান্তনু গুহ ঠাকুরতা।
সকালে অন্যরা যখন ঘুমিয়ে পুজোর হুল্লোড়ের স্বপ্ন দেখছে আপনি তখন ঘেমে নেয়ে একাকার।
শুধু সল্ট লেক সিটি নয়, সাতশো মাইল দূর থেকেও অনেকে এই পুজো দেখতে এসেছিলেন।