শীত আসছে, এই সুযোগ পুজোর অফারে গিজার কেনার

স্বপন দাস
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০০:২১:৪৪ | শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:৫৯:৩৮

আর কিছুদিন পরেই হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করবে। যদিও এই সময়ে একটা ভ্যাপসা ভাব আমাদের মনের কোনায় উঁকি দিচ্ছে, এ বছর জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়বে তো? সে ঠান্ডা বেশি পড়ুক আর নাই বা পড়ুক, আমাদের বাথরুমে একটা জল গরম করার ব্যবস্থা রাখার ইচ্ছা সবার মনেই কম বেশি হয়ই। ১৮৬৮ সালে একজন ইংরেজ, বেঞ্জামিন মঘ্যান তাৎক্ষণিক জল গরম করার যন্ত্রটি আবিষ্কারের পর মানুষের জীবনের সঙ্গে গিজার শব্দটি জুড়ে গেল অঙ্গাঙ্গীভাবে।

এই পুজোর মরশুমে তাই আর সব কিছুর সঙ্গে একটা জল গরম করার ব্যবস্থা করলে মন্দ কি? হাতের কাছে নানান কোম্পানির অফার তো রয়েছে এই সময়। তাই একটু সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তো আছেই, তার উপর বেশ কিছু কোম্পানি আবার ই এম আইতে কেনার সুযোগও করে দিচ্ছে। তাই গীজার মানে জল গরম করার মেশিন কেনার এই সময়টাকে ছাড়লে চলবে না।

আমরা দোকানে গিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়ি, কোনটা কিনব আর কোনটা কিনব না, এই বিষয়টাকে নিয়ে চিন্তা করতে করতে। বাজারে বহু কোপানি আছে যারা এ সব বানায়, আর গুণমানেও সেরা। আমরা প্রথমেই যেটা ভাবি, সেটা আর কিছুই নয়।গিজারটি কতটা বড় , আর কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয়? এর পর মোটামুটি একটা দেখে শুনে কিনে ফেলা হল। এ বার কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, পরিবারের জন্য যে চাহিদা, সেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাবার অবস্থা ওই জল গরম করার যন্ত্রটির। আমরা এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রাথমিকভাবে দেখে নিতে হবে  গিজারটির ওয়াটেজ কত? এই ওয়াটেজ দেখেই বুঝে নিতে পারবেন কী রকম বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।

একটি জল গরম করার মেশিন কেনার আগে কিছু বিষয় জানাটা জরুরি।

১।  যারা একটু বেশি গরম জল পছন্দ করেন, তারা জানবেন ওই বেশি গরম করার জন্য বেশি বিদ্যুৎ বিল আসবে। তাই বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী যন্ত্রটি কেনা দরকার।

২।পরিবেশেটি কেমন? কাশ্মীরের জন্য দরকার একটু বেশি গরম জলের, তামিলনাড়ুর জন্য একটু কম। তাই এ দিকেও নজর দিয়ে বিদ্যুৎসাশ্রয়ের জন্য গিজারটি সে রকম কিনতে হবে।

৩। আমাদের কাছে সব পরিচিত গিজারেই তাপমাত্রা মাপা থাকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিছু কিছু গিজারে আবার এই তাপমাত্রাকে বাড়ানো বা কমানো যায়। তবে যার যেটা সুবিধে, সেটাই কেনা উচিত।

Know about Durga Puja offers on geyser-Ananda Utsav 2017

৪। প্রত্যেক জল গরম করার যন্ত্রই একটা তাপকে নষ্ট করে থাকে। এর কারণ ওই গিজারটির ভিতরের জল ধারণ করার জায়গার ব্যপ্তির কারণে। এ ছাড়াও তাপ নষ্ট হওয়ার আরও একটি কারণ থাকে,  ওই গিজারটি তৈরিতে কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তার উপর। আর আমাদের কতটা জল দরকার, সেটা আগে থেকে জেনে। সেই পরিমাণ জল গরম করার ক্ষেত্রে কোন যন্ত্রটি কতটা পরিমাণ তাপ নষ্ট করছে সেটাও দেখতে হবে।

এ বার একটু দেখা যাক একটি পরিবারের জন্য স্নানের জন্য কতটা জল প্রয়োজন হয়।

১। আমরা বালতির জলে স্নান করলে দরকার প্রতি ব্যক্তি ১৫ লিটার।

২। শাওয়ারে প্রতি ব্যক্তি ২৫ লিটার।

৩। যদি টাব-এ স্নান করা হয় তবে ৩৫ লিটার প্রতি ব্যক্তি। ( সুত্র: বিজলি বাচাও কমিটি)

মনে রাখতে হবে আমাদের শরীর কিন্তু সবচেয়ে বেশি ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। তার বেশি হলেই ক্ষতি। তাই গরম জলের সঙ্গে ঠান্ডা জল মিশিয়ে নিন।

 কেনার আগে পাঁচটি বিষয় মাথায় রাখুন।

১। অটো অফ দেখে নেবেন। এতে বিদ্যুৎ বাঁচে।

২। জল বেশি গরম হতে কত ওয়াট শক্তি খরচ হয়?

৩। বাড়ির বাথরুমের সঙ্গে মানানসই হচ্ছে কিনা সেটা দেখবেন।

৪। দু’রকমের গিজার আছে ট্যাঙ্ক সমেত আর ট্যাঙ্ক ছাড়া। ট্যাঙ্ক সমেত গিজার একটু সস্তা হয়। কিন্তু অনেকের সব সময় জল থাকার কারণে ভিতরটা নষ্ট হতে সময় নেয় তাড়াতাড়ি। ট্যাঙ্ক ছাড়া গিজারে শক্তির সাশ্রয় বেশি। কেন না যখন দরকার তখনই শুধু গরমের ব্যবস্থা করা যায়। সব সময়ে জল ও পাওয়া যায়। তবে একটু দাম বেশি।

এ বার আসি আজকের দিনের কিছু বাজারের নামি গিজারের কথায়। বাজাজ, রি কোল্ড, এ ও স্মিথ,ক্রম্পটন গ্রিভস, ভি–গার্ড গিজার ব্র্যান্ডগুলি বেশ ভাল।

এখন প্রত্যেক গিজার কোম্পানি ওয়্যারন্টি দিচ্ছে। তবে ভিতরের দিক থেকে মরচে যাতে না ধরে তার ব্যবস্থা সমেত বেশ কিছু গিজার বাজারে এসেছে। কিছু কোম্পানি আবার হিটিং এলিমেন্ট কে নিরাপদে রাখার জন্য কাচের মোড়ক দিয়েছে। যা কিনা একটি গিজারকে বেশি দিন সক্রিয় থাকতে সাহায্য করছে। দাম সাধ্যের মধ্যেই আছে সাত হাজার থেকে শুরু। এ বার আপনি যত দামের দিক থেকে উঠবেন।

বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে মানুষ এখনও দ্বন্দে। কেননা শীতের থাবা কেমনভাবে আমাদের জর্জরিত করবেসেই ভাবনায় রয়েছে। আর সেই কারণে কবে কিনবেন  সেটাও চিন্তার। তবুও শীতের কামড় থেকে বাঁচতে এই সময়ে একটা কিনে রাখলে ক্ষতি কী?

সর্বশেষ সংবাদ

দীপাবলি মানে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। ফুল, প্রদীপ, রঙ্গোলির রঙে মনকে রাঙিয়ে তোলা।
হেডফোন বা হেডসেট এমন বাছুন যা কি না আপনার কান আর শরীরকে কষ্ট না দেয়।
ছবি তোলার প্রথম ক্যামেরা কোডাক যে দিন বাজারে এল বিক্রির জন্য, সেই ১৮৮৮ সালে। পাল্টে গেল ছবি তোলার সংজ্ঞাই।
আগে এই প্রথা মূলত অবাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন লক্ষ্মীলাভের আশায় বাঙালিরাও সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ধন কথার অর্থ সম্পদ, তেরাসের অর্থ ত্রয়োদশী তিথি।
এই একবিংশ শতাব্দীতে ১৫৯০-এর একটুকরো আওধকে কলকাতায় হাজির করেছেন ভোজনবিলাসী শিলাদিত্য চৌধুরী।
আমেরিকার সেন্ট লুইসের প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহান্তে মেতে উঠেছিলাম দূর্গা পুজো নিয়ে।
শারদীয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আগমনীর বার্তা নিয়ে হাজির দীপান্বিতা।