গাড়ি নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছেন? দেখে নিন এ সব

দেবজিৎ গুহ

২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১০:০৪
শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৩:৫৪

গাড়ি নিয়ে ঘুরতে গেলে মাথায় রাখতেই হবে এ সব দরকারি তথ্য।


পুজো এসে গেল। অনেকেই পুজোর ছুটিতে কলকাতা বা অন্য শহর থেকে বাইরে ঘুরতে চলে যান, কেউ ট্রেনে কেউ বা প্লেনে। আবার অনেকে এখন নিজের গাড়িতেই বেরিয়ে পড়বেন ন্যাশনাল বা স্টেট হাইওয়ে ধরে। যাঁরা এ ভাবে গাড়িতে বেরোন তাঁদের আগে থেকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হয়।

প্রথমেই গাড়িটি ভাল করে সার্ভিস করিয়ে সব চেক করে নিতে হবে। লাইট, হর্ন, ওয়াইপার অত্যন্ত জরুরি। এর পর টায়ার আর ব্যাটারিও চেক করা দরকার। বিশেষ করে বাইরে যাওয়ার আগে ডবল স্টেপনি থাকলে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।

গাড়িতে একটি হাইড্রলিক জ্যাক থাকলে তাড়াতাড়ি চাকা বদল করা খুব সহজ। এর সঙ্গে চাকায় হাওয়া দেওয়ার জন্য ছোট ইনফ্লেটর থাকলে নিজেরাই কাজ চালাবার মতো টায়ার সারিয়ে নেওয়া যায়। এখন প্রায় সব গাড়িই টিউবলেস টায়ারে চলে, তাই সঙ্গে টায়ার রিপেয়ার কিট রাখা ভাল। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় অনেক জায়গায় টিউবলেস টায়ার রিপেয়ারের কোনও কিট থাকে না।

আরও পড়ুন

তেলের দাম আগুন, বাইক কেনার আগে মাইলেজ দেখে নিন

রাস্তার ধুলোময়লা কাচ থেকে ওয়াশ করার জন্য চেক করে নেবেন উইন্ডশিল্ড ওয়াশার ট্যাঙ্ক। ছবি: শাটারস্টক।

ফার্স্ট এইড বক্স, জরুরি ওষুধও রাখা প্রয়োজন। টর্চ, মোমবাতি, কিছু দড়ি, বাংজি কর্ড, পুরনো খবরের কাগজ, কাপড়, হাত ধোয়ার সাবান ইত্যাদি অনেক সময় খুবই কাজে লাগে। গাড়ির নিজস্ব টুল কিট ছাড়াও এক্সট্রা স্ক্রু ড্রাইভার, প্ল্যাইয়ার (চলতি ভাষায় প্লাস) সেট রাখা উচিত। এর সঙ্গে এক্সট্রা মবিল, কুল্যান্ট ব্রেক অয়েল, ফিউজ, খালি জ্যারিকেন, মাগও কাজে লাগে। চেক করে নেবেন উইন্ডশিল্ড ওয়াশার ট্যাঙ্কে যেন ওয়াশার ফ্লুইড থাকে, রাস্তার ধুলোময়লা কাচ থেকে ওয়াশ করার জন্য।

জেনে নেওয়া ভাল চাকা বদলানো, ফিউজ পাল্টানোর টুকিটাকি। গাড়ির মধ্যে মোবাইল হোল্ডার, চার্জার নেবেন, পাওয়ার ব্যাঙ্ক, সঙ্গে নেবেন একাধিক টর্চ ও এক্সট্রা কিছু ব্যাটারি। খুচরো টাকা রাখুন, টোল ট্যাক্সের বুথে অনেক সময় বাঁচানো যায়, যদি না আপনার ফাসটাগ (এটিকে আপনার ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে চার্জ করা থাকলে টোল ট্যাক্স দেওয়ায় নগদ টাকা দিতে হবে না, সময়ও বাঁচবে) লাগানো থাকে। গাড়িতে পর্যাপ্ত খাবার জল রাখবেন ডিহাইড্রেশন এড়াতে (প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার কম করুন)।

থার্মোফ্লাস্ক নিতে পারেন যাতে পানীয় গরম/ঠান্ডা দুইই থাকবে। প্রথম দিনের প্যাকড খাবার গাড়িতেই খেতে পারেন। সঙ্গে ফল, বিস্কুট, কেক, চিপস, সফ্ট ড্রিঙ্কস মজুত করে রাখুন। মনে রাখবেন, চালু ধাবা বা রেস্তরাঁ দেখে গাড়ি থামান। অবশ্যই নিজে নেমে জেনে নিন মহিলাদের পরিষ্কার শৌচালয় আছে কি না। আজকাল আমরা অনেকেই গুগল ম্যাপস-এর উপর অনেক ভরসা করি। কিন্তু এর সঙ্গে পুরনো পেপার ম্যাপ অনেক সময় কাজে লাগে যদি ফোনের ব্যাটারি বা নেটওয়ার্ক চলে যায়।

আরও পড়ুন

নিয়মিত গাড়ির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, ভাল থাকবেন আপনিও

 

প্রথমেই গাড়িটি ভাল করে সার্ভিস করিয়ে নিন। ছবি: শাটারস্টক।

অনেক সময় আমরা প্রচলিত টুরিস্ট স্পটে না গিয়ে অফ বিট ডেস্টিনেশনে বা ইকো ট্যুরিজমে যাই। এই সব জায়গায় প্রায় কোনও এটিএম থাকে না, তাই এক্সট্রা ক্যাশ সঙ্গে রাখবেন। গাড়ির মধ্যে অবশ্যই একটি বিন বা ব্যাগ রাখবেন যাতে বাইরে ময়লা না ফেলতে হয় এবং পরিবেশ দূষণ না হয়।

গাড়িতে এসি অনেক ক্ষণ চলার ফাঁকে মাঝেমধ্যে ফ্রেশ এয়ার মোড অন করে দিন। তাতে অক্সিজেন ও ফ্রেশ হাওয়া ভিতরে আসবে। চালকের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা বলুন, তাঁর একঘেয়েমি দূর করতে ও ঘুম কাটাতে। মাউথ ফ্রেশনার বা চিইউংগাম দিতে পারেন, কফি অফার করতে পারেন। গাড়িতে অল্প ভলিউমে গানবাজনা চালাতে পারেন যাতে চালকের অসুবিধা না হয়। চালকের পাশে যিনি বসবেন, তিনি যদি না ঘুমিয়ে সজাগ থাকেন তা হলে মাঝেমধ্যে চালককে সতর্ক করতে পারেন বা ম্যাপের দ্বারা গাইড করতে পারেন।

গাড়ির সমস্ত কাগজপত্রের ফটোকপি গাড়ির গ্লোভবক্সে রাখুন এবং অরিজিনাল নিজের কাছে রাখুন। সঙ্গে গাড়ির ডুপ্লিকেট চাবি নিজের ব্যাগে রাখুন। অনেক সময় টোল ট্যাক্স আপ-ডাউনের রসিদ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এড়াতে একটি প্লাস্টিক পাউচ ব্যবহার করুন।

আরও পড়ুন

পুজোয় সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কিনবেন? মাথায় রাখুন এ সব টিপস

 

সর্বদা সিট বেল্ট পড়ুন। ছবি: শাটারস্টক।

ছোট গাড়ি হলে সফ্ট লাগেজ ক্যারি করা ভাল, এতে কেবিন বা ডিকিতে লাগেজ অ্যাডজাস্ট করতে সুবিধে হয়। যাঁরা স্মোক করেন তাঁরা যদি গাড়ি থেকে নেমে করেন তা হলে কোমরটা টান করে নিতে পারেন ও গাড়ির ভিতরেও কারও অসুবিধা হয় না। গাড়িতে ডিও স্প্রে ইত্যাদি না রাখা ভাল, কারণ এগুলো গরমে এক্সপ্যান্ড করে এবং বিপদজনক হতে পারে। পরিবর্তে ডিও জেল ব্যবহার করতে পারেন। গাড়ির মেঝেতে বা ফ্লোরে জলের বোতল রাখবেন না, গড়িয়ে ক্লাচ-ব্রেক-অ্যাক্সেলেটরের নীচে গেলে বিপদ হতে পারে।

ব্যস, আর কি? সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে সময়মতো পৌঁছে যান গন্তব্যে। পরের দিন বেরবার আগে অবশ্যই চেক করে নিন গাড়ির মবিল, কুল্যান্ট ইত্যাদি, সঙ্গে টায়ার প্রেশার। দ্বিতীয় দিন শুরু করার আগে ট্যাঙ্ক ফুল করুন আর কিলোমিটার নোট করুন। এর থেকে প্রথম দিনের ফুল ট্যাঙ্ক করার সময়কার কিলোমিটার যা ছিল তা বাদ দিন। এটিকে দ্বিতীয় দিনে যত লিটার তেল নেওয়া হল তা দিয়ে ভাগ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার গাড়ির সঠিক মাইলেজ।

অধিকন্তু ন দোষায়। সর্বদা সিট বেল্ট পড়ুন এবং গাড়ি চালানোর সময়ে নয়, রাস্তার ধারে পার্ক করে তবে মোবাইলে কথা বলুন।