মাত্র তিন বছরেই ভাবে-উৎসবে জমে গিয়েছে বেলান্দুরের দুর্গাপূজা

পিনাকী চক্রবর্তী

০২ অক্টোবর, ২০১৯, ১৪:১৬
শেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর, ২০১৯, ১৫:৪৫

বিষ্ণুপুর ঘরানার টেরাকোটা রীতিতে মণ্ডপসজ্জা এ বার বেঙ্গালুরুতে।


শরৎকালে পেলব কাশফুলের স্পর্শানুভব থেকে, বৈদ্যুতিন শিল্পের মহাপীঠ বেঙ্গালুরুর সদাব্যস্ত মানুষজনও নিজেদের সরিয়ে রাখতে পারেন না। ২০১৭-র এক বর্ষাস্নাত সকালে বেলান্দুর নিবাসী কতিপয় মানুষ ঠিক করলেন— ঘরোয়া আবহে দুর্গাপূজা করে পুজোর সাবেকিয়ানা প্রবাসী মানুষজনের মধ্যে ছড়িয়ে শরতের আনন্দ উপভোগ করতে হবে। সেই বছরই প্রতিষ্ঠা হল গ্রিন গ্লেন লেআউট কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। বাঙালি, অবাঙালি সকলে জাতি-ধৰ্ম নির্বিশেষে যোগদান করেন আমাদের মাতৃবন্দনায়। নতুন প্রজন্মকে ভারতীয় সংস্কৃতি, রীতি-নীতির সঙ্গে একাত্ম করার উদ্দেশ্যে আমাদের এই প্রতিষ্ঠান সারা বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, তন্মধ্যে দুর্গাপূজাই বৃহত্তম।
 
গত বছর এই দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাবেকিয়ানা এবং আধুনিকতার মিশেলে। ধর্মীয় রীতি-নীতি ও লোকাচার মেনে পূজা পালনের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চা-বুড়ো সকলের জন্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং খাবার বিপণনের স্টলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সপ্তমী সন্ধ্যায় বাংলা সা-রে-গা-মা-পা-এর ফাইনালিস্ট দুজন শিল্পীর সঙ্গীত পরিবেশনা শ্রোতা-দর্শকের মন প্রভূত ভাবে জয় করেছিল। পাঁচদিন ব্যাপী দুর্গাপূজায় দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় আটত্রিশ হাজার ছুঁয়েছিল। বিভিন্ন সংস্থা ও মানুষজনের স্বতঃপ্রণোদিত আর্থিক অনুদান সমগ্র অনুষ্ঠানটির জৌলুস বৃদ্ধিতে খুবই সহায়ক হয়েছিল।
 

 

আরও পড়ুন: দেখতে দেখতে ১৪ বছর, তৈরি হচ্ছে ডেট্রয়েটের দুর্গা টেম্পল

আরও পড়ুন: হুহু করে উঠত বুকটা, এ বার পুজোয় কলকাতাটাকেই তুলে আনছি অসলোয়

এ বছর আমাদের পূজা তৃতীয় বৎসরে পড়ল। বিষ্ণুপুর ঘরানার টেরাকোটা রীতিতে মণ্ডপসজ্জা এ বার আমাদের পূজার বিশেষ আকর্ষণ। সঙ্গে সাবেকি আদলের মূর্তি। আমাদের আশা, এই সাবেকি অলঙ্করণ শুধু দর্শকের মন জয় করতেই সক্ষম হবে না, সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মকে স্বদেশের অনন্য সাধারণ প্রাচীন শিল্পকলা ও শিল্পীদের শিল্পনৈপুণ্যের আভাস দিতে সমর্থ হবে। এই মণ্ডপসজ্জা আমাদেরই কয়েকজন সদস্য নিজে হাতে তৈরি করেছেন তাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও শিল্পসত্তার মেলবন্ধন ঘটিয়ে। বাংলার পোড়া মাটির সুবাস ছড়িয়ে দিয়ে প্রবাসীদের আপ্লুত করে তুললেই এই প্রচেষ্টা সফল হবে। মণ্ডপসজ্জার অভিনবত্ব ছাড়াও যথাবিহিত নিয়মরীতি মেনে পূজা হবে, সঙ্গে থাকবে সংগীতসুধা পানের আয়োজন। আর বাঙালি তথা ভারতীয়দের কোনও আড্ডাই সম্পূর্ণ হয় না ভুরিভোজ ছাড়া। দ্বিপ্রাহরিক ভোগ বিতরণের সঙ্গে ভিন্ন স্বাদের খাবারের পসরা সাজিয়ে বেশ কয়েকটি ফুড স্টল থাকবে পূজা প্রাঙ্গনে আয়োজিত আমাদের খাদ্যমেলা টেস্টিভাল (Testival)-এ। ধী-বৃত্তিকে সক্রিয় করার জন্যে থাকছে কলকাতার পাবলিশার্স এন্ড বুকসেলার্স গিল্ড ও স্থানীয় সপ্না বুক স্টোর্স এন্ড পাবলিশার্স-এর সহায়তায় আয়োজিত পুস্তকমেলা। আশা করছি এ পূজা সকলকে খুব আনন্দ দেবে।