বাঙালির সবচেয়ে বড় পার্বণের স্বাদ দিতেই আগমনীর দুর্গাপুজো

তানিয়া ভট্টাচার্য

০৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:০৫
শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:১৭

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার ট্রাই-ভ্যালি অঞ্চলের আগমনী দুর্গাপুজো এ বার তৃতীয় বছরে পড়ল।


প্রবাসে একটা কথা খুব চালু আছে। ‘তিন জন বাঙালি প্রবাসে জড়ো হলেই একটা দুর্গাপুজো শুরু হয়। আর চার জন হলে দুটো।’ আমাদের খুব গর্বের জায়গা এটাই যে, কোনও দল ভেঙে আমাদের পুজোর পথ চলা শুরু হয়নি। আমরা স্বয়ম্ভূ!

ঘরোয়া পরিবেশে সব্বাইকে নিয়ে পথ চলার শুরু ২০১৭ সাল থেকে। যারা আয়োজনের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই একটা সংগঠনের ভিত্তি স্থাপনা থেকে শুরু করে এত বড় মাপের একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করার পূর্বাভিজ্ঞতা ছিল না। তবুও অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমরা চেষ্টা করেছি পুজোটা শুরু করতে! শুধু তাই নয়, প্রথম বছর থেকেই এই পথচলার সফরসঙ্গী হিসেবে আমরা পেয়েছি অগুন্তি মানুষের সাহায্য।

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার ট্রাই-ভ্যালি অঞ্চলের আগমনী দুর্গাপুজো এ বার তৃতীয় বছরে পড়ল। আমাদের পুজো হয় সবুজের সমারোহের মধ্যে। চোখ জুড়ানো সান রামন সেন্ট্রাল পার্কে। আগের দু’বছরের থিম ছিল যথাক্রমে যামিনী রায়ের ছবি ও চন্দননগর স্টাইল লাইটিং। এবছর আমাদের ডেকরেশন টিম নিয়ে আসছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের নস্টালজিয়া। থাকছে লোকাল ট্যালেন্টদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কলকাতার পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকগানের সন্ধ্যা, দু’-দুটো ফ্যাশন শো, জমজমাট নাটক, বিভিন্ন স্বাদের ব্যান্ড আর তিন দিন রীতিমতো কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া দাওয়া! আগমনী শুধুমাত্র প্রবাসের পুজো আয়োজনের উদ্দেশ্য সৃষ্টি নয়। আমাদের সম্বৎসর নানান অনুষ্ঠান চলতে থাকে। এ বছরও আমাদের পুজোর আয়োজনে থাকছে চ্যারিটেবল অ্যান্ড ফিলান্থ্রফিক  অ্যাক্টিভিটির বুথ, যেখানে আমরা স্থানীয় ফুড ব্যাঙ্কের জন্য অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করব। থাকছে আর্ট অকশন— কমিউনিটির কচিকাঁচাদের হাতের কাজ বিক্রি থেকে সংগৃহীত অর্থ আমাদের চ্যারিটেবল কাজে ব্যয় হয়।

আগমনীর পুজোয় সবাই দুর্গাপুজোর আনন্দ ভাগ করে নিই। সেই ছোটবেলায় ফেলে আসা দিনগুলোর সুখস্মৃতি ঝালিয়ে নিই। পরবর্তী প্রজন্মকে বাঙালির সবচেয়ে বড় পার্বণের স্বাদ নিতে উৎসাহিত করি।