স্টকহলমের দুর্গাপুজো এ বার সাতে পা দিল

প্রিয়রঞ্জন ভকত

১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১৬:২৬
শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১৮:১৮

মায়ের মূর্তি ফাইবারের। কলকাতার কুমোরটুলি থেকে আনা গ্লাস ফাইবারের মূর্তি।


দেখতে দেখতে সাত বছর হয়ে গেল! অন্যান্য বছরের মতো এ বারও স্টকহলম সর্বজনীন পুজো কমিটি (এসএসপিসি)-র পরিচালনায় সাড়ম্বরে আয়োজিত হল দুর্গাপুজো।
 
মায়ের মূর্তি ফাইবারের। কলকাতার কুমোরটুলি থেকে আনা গ্লাস ফাইবারের মূর্তি। গত ৪ অক্টোবর পুজো শুরু হয়। শেষ ৬ তারিখে। স্টকহলমের উপকণ্ঠে কুংসাঙ্গেন প্রাঙ্গণেই দুর্গাপুজো করা হয়।তিন দিনের ওই পুজোয় শাস্ত্রীয় প্রথা ও বাংলার প্রচলিত সংস্কারে দেবীর আরাধনা করা হয়। পুরোহিত ছিলেন বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী। তাঁর ভক্তি এবং শ্রদ্ধা সহকারে মাতৃবন্দনা দেখে কে বলবে, এটা বাংলা নয়!তিনি মায়ের অকালবোধনের বৃত্তান্ত সকলকে একেবারে গল্পের মতো করে শোনান। ব্যাখ্যাও করেন।
 
যে তিন দিন পুজো ছিল, সে ক’দিন উপস্থিত সকলের জন্য প্রসাদ, মধ্যাহ্ন ও  নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও অনেকে বড়ি থেকে খাবার বানিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। বিভিন্ন সংস্থাও খাবারের স্টল দিয়েছিল। সব মিলিয়ে বাঙালির রসনা একেবারে তৃপ্ত!
 

 

 
পুজোর সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। প্রথম দু’দিন ছোট থেকে বড়— সকলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অংশ নেয়। সেই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়াও এসএসপিসি-র পরিচালনায় হাসির নাটক ‘মহাদেবের স্টকহোম ভ্রমণ’ দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। আরও একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হয় এ বছরের পুজোয়। ৮-১০ জন মিলে তবলাবাদন! সে এক অভূতপূর্ব অনুষ্ঠান। প্রতি বারের মতো পুজো উপলক্ষে বাৎসরিক পত্রিকা ‘লিখন’ওএ বার প্রকাশিত হয়েছে। এই পত্রিকাটি তিনটি ভাষায় পড়া যায়— বাংলা, ইংরেজি এবং সুইডিশ।
 
আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন স্টকহলমে কর্মরত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধান। তিনি সন্ধিপুজোর সময় এসেছিলেন। সকলের উদ্দেশে ছোট্ট বক্তব্যও রাখেন। তবে, পুজো কমিটির তরফে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে বহু বার চেষ্টা করা সত্ত্বেও যোগাযোগ করা যায়নি।
 

 

 
এসএসপিসি প্রতি বছরই তাদের পুজোর খরচ বাঁচিয়ে দুঃস্থ মানুষদের সেবায় সে অর্থব্যয় করে। এ বছরদুঃস্থদের সাহায্যের উদ্দেশে পশ্চিমবঙ্গের ‘প্রত্যাশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-কে কিছু অর্থ প্রদান করেছে এসএসপিসি। বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রামের বেশ কিছু পরিবার এতে উপকৃত হবেন। এসএসপিসি এ বছরও ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছ ভারত যোজনাতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পুজোর সমস্ত খরচ এসএসপিসির সদস্য এবং ভক্তদের সাহায্যার্থে হয়। সরকারি কোনও অর্থ সাহায্য ছাড়াই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
 
ছবি: ইন্দ্রনীল সিংহ