পুজোর সব শপিং একা হাতে সামলে দিল নন্দিনীই

আবীর চট্টোপাধ্যায়

২০ অক্টোবর, ২০২০, ১২:২৮
শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর, ২০২০, ১৩:২৭

সময়টা বড্ড হতাশাব্যঞ্জক এখন, বিপদেরও। তাই নিজেকেও বিপদে ফেলবেন না, এবং সঙ্গে অন্যকেও নয়।


বলছি, ভাইরাসটাই তো নতুন। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব যে কী, তা আমরা কেউই জানি না। পুজোয় আনন্দ নিশ্চয়ই করুন। কিন্তু শুধু শুধু ঝুঁকি নাই বা নিলেন! পাকামিটা কিন্তু আসলে বোকামিই! 

এ বছর পুজোয় নো প্ল্যান...

আমি তো কোথাও বেরোচ্ছি না। হ্যাঁ, হয়তো এক দিন কাকার বাড়ি যাব, সল্টলেকে। সঙ্গে নন্দিনী আর মেয়ে। তবে আমরা সকলেই খুব ভয়ে রয়েছি। নন্দিনী আর মেয়ে এখনও পর্যন্ত সুস্থ। কিন্তু কোথা থেকে কখন কী হয়ে যাবে, সেটা বলা খুবই মুশকিল।

কেনাকাটা সব বৌ সামলেছে

এখন যা পরিস্থিতি, অনলাইন ভরসা। মেয়ের জন্য শপিং করেছি, সবটাই অনলাইন। নন্দিনী এই ব্যাপারে অনেকটাই সাহায্য করেছে। বরং বলতে গেলে পুরোটাই ওর ক্রেডিট! পরিবারের অন্য সদস্যদের, গুরুজনদের এবং ছোটদের উপহার দিই প্রতি বছর। সবার সব উপহারই এ বার অনলাইনে কেনা। প্রত্যেকের থেকে বাড়ির ঠিকানা নেওয়া, উপহারগুলো তাঁদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া- সব মিলিয়ে একটা মারাত্মক প্ল্যানিং-এর ব্যাপার। এই পুরোটাই আমার বৌ একা হাতে সামলেছে।

আরও পড়ুন: এই তো আমার মা দুগগা, যাঁকে নিজে হাতে সাজাচ্ছি

আবেগের নাম সারেগামাপা

সারেগামাপা-য় এই প্রথম সঞ্চালকের ভূমিকায়। উৎসাহ তুঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই। আবেগ তো আছেই। আর তাই এখনও জয়দা আর আমি লড়ে যাচ্ছি। সবাই মিলে কাজও চলছে। আসলে করোনার কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং-এ একটা নির্দিষ্ট জায়গাকে চিহ্নিত করা তো মুশকিলের। কারণ, আমরা প্রত্যেকেই কাজের সূত্রে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। পুরোটাই কপাল জোরে চলছে, আর যতটুকু সাবধানতা অবলম্বন করা যায়।

সবাইকে আবারও বলছি বাইরে বেরোবেন না, ভিড় করবেন না।

পুজোয় অকারণে ভিড় একদম নয়...

মানুষ আমাদের অনুসরণ করেন, বিশেষত তরুণ প্রজন্ম। তাই আমাদের কোথাও একটা দায়িত্ব থেকেই যায়। আমার মতো করেই মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করি। সে জন্যই আমরা বার বার বলছি ভিড় বাড়াবেন না। অন্তত আমার মনে হয় বাড়িতে থাকাই শ্রেয়। সবাইকে বাড়িতে থাকতে বলে আমি নিজেই ঘুরে বেড়ালে কী করে চলবে!

এই বছর প্লিজ ছুটি দিন আমায়!

প্রতি বছরই পুজোর জন্য অনেক ফটোশুট করতে হয়। পুজোর জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের শুট, পুজো পরিক্রমা সবই থাকে। এ বছরটা করোনাসুরের চক্করে কাজের চাপ তুলনায় অনেকটাই হাল্কা। অনেক বড় ব্র্যান্ড নিজেদের বিজ্ঞাপন এ বছর কমিয়ে এনেছেন, অনেকটাই ছোট করে ফেলেছেন। এটা এক দিকে স্বস্তির। তাই এ বছর আমিও বলেছি প্লিজ আমাকে ছুটি দাও।

আরও পড়ুন: ধুনুচি নাচের আফসোস নেই, নারীও কি থাকতে নেই!

তবে পুজোর জন্য শুট একেবারে করিনি, তা নয়। আমার ইনস্টায় ইতিমধ্যেই কিছু ছবিও শেয়ার করেছি। তবে হ্যাঁ, ওই পুজো পরিক্রমার ব্যাপারটা এ বছর থাক বরং, আসছে বছর আবার হবে।

সবাইকে আবারও বলছি বাইরে বেরোবেন না, ভিড় করবেন না। সময়টা বড্ড হতাশাব্যঞ্জক এখন, বিপদেরও। তাই নিজেকেও বিপদে ফেলবেন না, এবং সঙ্গে অন্যকেও নয়।