বাবা কাল ষষ্ঠী, এখনও ম্যাচিং জুতো বাকি, এটা আর বলা হবে না…

ঐন্দ্রিলা সেন

০৫ অক্টোবর ২০১৮ ১৪:২০
শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০১৮ ১৪:১৯


সাজতে আমি ভালইবাসি। লেটেস্ট ফ্যাশনের ড্রেস পরতেও ভাল লাগে। এখন তো সারা বছরই কিছু না কিছু কেনা হয়। অনলাইন শপিং হয়ে আরও সুবিধে হয়েছে। তবুও পুজোর জামা একটা অন্য আনন্দ। যদিও মন খারাপও বটে।

জানেন, আগে রাতে ঘুম হত না। আগে, মানে যখন বাবা ছিল। লাস্ট দিন অবধি বাবাকে বলতাম, বাবা কাল ষষ্ঠী। এখনও ম্যাচিং একটা জুতো বাকি। বা তখনও জামার সঙ্গে মিলিয়ে জুয়েলারি কেনা হয়নি। সে আবদারও বাবার কাছে।

…এখন ঠিক উল্টো। এখন বাবা নেই। আমার সেই একান্ত আবদারের জায়গাটা নেই। হ্যাঁ, মা আছে। অঙ্কুশ আছে। কাছের বন্ধুরা আছে। কিন্তু বাবার কাছে যে আবদার করতাম সেটা হবে না কোনওদিন।

আরও পড়ুন: পুজোয় ফ্যাশন ট্রেন্ড ছাড়াই সাজতে চান? রইল ডিজাইনারের টিপস​

আরও পড়ুন: এ বার পুজোয় কী পোশাক? টিপস দিচ্ছেন ডিজাইনার অনুপম​

মাকে তো এখনই বলে দিয়েছি, জোর করবে না, একটাও জামা কিনব না। কিন্তু যা হয়, সন্তান তো…মা বলছে একটা কেন, একটা কেন।অলরেডি দু’টো, তিনটে বোধহয় কেনা হয়ে গিয়েছে। পুজোতে যত ইনঅগুরেশন বা পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স আছে সেখানে এথনিক কিছু পরব। আর যেগুলো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার জায়গা সেখানে ফ্রক বা অন্য কোনও ড্রেস পরব।

আসলে পুজোর ফ্যাশন নিয়ে লিখতে গিয়েও বার বার বাবার কথাই মনে পড়ছে। শুধু পুজো তো নয়, বাবাকে সব সময় মিস করি। বাবাকে ছাড়া আমি আর মা কিছুই ভাবতে পারতাম না। বিশ্বাস করবেন না, আমার মুখ থেকে কিছু খসতে পারত না। সঙ্গে সঙ্গে বাবা এনে দিত। কোনও একটা ড্রেসের দিকে হয়তো তাকালাম। বলিওনি যে আমার পছন্দ। বাবা কিনে দিত ঠিক। বড় বয়স পর্যন্ত গান গেয়ে ঘুম থেকে তোলা বা কাতুকুতু দেওয়া এ সব ছিল। আমি ভীষণ বাবা ন্যাওটা। তাই পুজোর ফ্যাশন বা পুজোর জামা নিয়ে বলতে গিয়েও বার বার বাবার কথাই বলে ফেললাম…।