সচন্দন, সপুষ্প.. এবং হ্যাঁ, অবশ্যই সপ্রেম, কেমন হবে অষ্টমীর সাজ?

পরমা দাশগুপ্ত

১৬ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:৪৯
শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর, ২০১৮, ১১:৪৬

সকালের অঞ্জলির জন্য এ বারেও তাই তোলা থাক সাবেক বাঙালির চিরন্তন লালপেড়ে শাড়ি আর পাজামা-পাঞ্জাবির চিরাচরিত বনেদিয়ানা।


অষ্টমীর অঞ্জলি মানেই আড়চোখে দেখে নেওয়া তাকে। মায়ের দিকে ফুল ছুড়ে দেওয়ার ফাঁকে আলগোছে তার মাথাতেও ভরে দেওয়া পাপড়ির ভালবাসা। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে প্রণামের ছুতোয় টুক করে ছুঁয়ে দেওয়া হাত।

অষ্টমী মানেই তাই সাজও এক্কেবারে তার মনের মতো। আর কে না জানে, এই দিনটায় শাড়ি-পাঞ্জাবীর বাঙালিয়ানার ধারেকাছে ঘেঁষতে পারেনি কেউই।

সকালের অঞ্জলির জন্য এ বারেও তাই তোলা থাক সাবেক বাঙালির চিরন্তন লালপেড়ে শাড়ি আর পাজামা-পাঞ্জাবির চিরাচরিত বনেদিয়ানা। ডিজাইনার চন্দ্রাণী সিংহ ফ্লোরা বলছেন, “চড়া রোদে পাড়ার প্যান্ডেলে অঞ্জলির ভিড়ে নজরকাড়া হয়ে উঠুন সুতির হ্যান্ডলুম লালপাড় শাড়িতে। তবে সাবেক সাজ মানেই যে সোনার গয়না, তা কিন্তু নয়। বরং বেছে নিতে পারেন মানানসই রুপোর গয়না। কানে একটা ভারী কানপাশা থাকলে গলাটা বরং খালি থাক। হাত ভরে পরে নিন রুপোর চুড়ি, বালা। অথবা কান খালি রেখে একটা জমকালো টিকলিও পরতে পারেন। গলায় থাকল হাল্কা গয়না।” ডিজাইনার অভিষেক রায় ভাবছেন তাঁদের কথাও, অনভ্যস্ত শাড়ি যাদের খানিকটা নড়বড়ে করে দেয়। তাঁর কথায়, “শাড়ি মাস্ট। কিন্তু তাতে খানিক সুবিধের ব্যবস্থাও থাকলে ক্ষতি কী? রেডিমেড, স্টিচ করা শাড়িতে সাজও হল, কুঁচি-আঁচল নিখুঁত করতে নাজেহালও হতে হল না। চলাফেরাটাও দিব্যি স্মার্ট হয়ে গেল।” ছেলেদের জন্য দু’জনেরই পছন্দ পাঞ্জাবী। ধুতি হলে তো কথাই নেই। সামলে উঠতে না পারলে পাজামা বা জিন্স তো রইলই।

আরও পড়ুন: পুজোতে অঙ্কিতার স্টাইল স্টেটমেন্ট কী জানেন?

আরও পড়ুন: অষ্টমীতে লাল শাড়ি, বাকি দিন গাউন পরব​

বেশ, সকালে না হয় অঞ্জলিতেই কেটে গেল। অতঃপর? ঠাকুর দেখতে বেরনো আছে, সন্ধ্যেটা বন্ধুর বাড়িতে জমজমাট ঠেক কিংবা প্রাইভেট পার্টি। প্ল্যান কি কম? সেজেগুজে তাক লাগিয়ে দিতে না পারলে আর কী করলেন!

এই সব প্ল্যানগুলোর জন্য অভিষেক, চন্দ্রাণী দু’জনেরই পছন্দ খানিকটা এক্সপেরিমেন্ট। বাঙালি সাজেই ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ফিউশনের ছোঁয়ায় তাক লাগিয়ে দিন তাকে। অভিষেক বলছেন, “জ্যাকেট, শর্ট কুর্তি বা ক্রপ টপ দিয়ে পরে ফেলুন পছন্দের শাড়ি। সঙ্গে ম্যাচ করা জাঙ্ক জুয়েলারি। অন্যরকম দেখাবে। ছেলেরা বেছে নিন অ্যাসিমেট্রিক কুর্তা আর জিন্স।” চন্দ্রাণীর কথায়, “স্কার্ট বা পালাজো দিয়ে শাড়ি পরতে পারেন। ব্লাউজের বদলে কুর্তি বা টপ। এমনকি ধোতি প্যান্টের উপরে লম্বা চুর্ণী শাড়ির আঁচলের মতো করে জড়িয়ে উপর দিয়ে পরুন বেল্ট। গলায় একটা ভারী চোকার। হাতে রুপোর বালা, কাচের চুড়ির মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ। পার্টিতে সবার নজর থাকবে আপনারই দিকে।”

মানানসই ভাল জুতো আর হাল্কা মেকআপ। ছেলেদের কেয়ারফুলি কেয়ারলেস সাজা তো আছেই। সঙ্গে ভরপুর বাঙালিয়ানা। ব্যস!

তার চোখ একেবারে আপনার দিকেই। সারাক্ষণ!

Community guidelines
Community guidelines