পুজোর সময় বয়স্কদের কি বেরনো উচিত?

রোশনি কুহু চক্রবর্তী

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১৭:১৩
শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১৭:১২

পুজোর সময় কেমন কাটাবেন বয়স্করা?


পুজোতে একটা বার অন্তত মায়ের মুখ না দেখলে চলে না অনেক প্রবীণ নাগরিকদেরই। মা, অর্থাৎ দু্র্গা প্রতিমা। কিন্তু এ বছরের পুজোটা একেবারে অন্য রকম। করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে পুজোর সময়, মন আরও বিপর্যস্ত হবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে খুলে যাবে সব রকম সংক্রমণের দরজা। এই পরিস্থিতিতে বাড়ির বয়স্ক সদস্যরা কী করবেন?

বয়স্কদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। তাই তাঁদের আরও কঠোর ভাবে পুজোর সময়েও বন্দিদশা মেনে চলতে হবে। এ দিকে দিনের পর দিন গৃহবন্দি থাকতে থাকতে বয়স্কদের মানসিক শক্তি অটুট রাখা মুশকিল ।

অনেক বয়স্ক মানুষই আজকাল বাড়িতে বা ফ্ল্যাটে একলা অথবা দু’জনে থাকেন। দেখাশোনা করার জন্য হয় সব সময়ের জন্য, নয়তো সীমিত সময়ের জন্য সেবিকা বা পরিচারিকা থাকেন। এই সময় তাঁরাও বাড়ি চলে গিয়েছেন অথবা আসতে পারছেন না। ফলে বাড়ির সব কাজই নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী করতে হচ্ছে। এদিকে পুজোও আসছে। কিন্তু প্রতিমা দেখতে মণ্ডপে একেবারেই নয়, টিভিই হোক ভরসা, পরামর্শ জনস্বাস্থ্য চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামীর।

আরও পড়ুন : পুজোর সময় রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে এই সব মানতেই হবে

বয়স বেশি কিন্তু একেবারে তরতাজা যুবকের মতো রোগ প্রতিরোধ শক্তি। কোনও রকম কো-মর্বিডিটি নেই, সে ক্ষেত্রে কী করতে হবে?

পরিবারের  বয়স্করা যাতে মানসিক অবসাদে না ভোগেন সেই দিকে খেয়াল রাখুন।ছবি :শাটার স্টক

ডায়াবিটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বাড়ি থেকে একেবারেই বেরনো উচিত নয়, এ বছরের পুজোটা যে অন্য রকম, সেটা বোঝাতে হবে প্রবীণদের। যাঁরা একা থাকেন, শরীর সুস্থ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বাইরে থাকা প্রিয়জন কিংবা প্রতিবেশীদেরই দায়িত্ব নিতে হবে বোঝানোর, বললেন মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস। পুজোর সময়টুকুও বেরতে না পারলে অনেকেরই মানসিক একটা চাপ তৈরি হবে, সে ক্ষেত্রে সহানুভূতির সঙ্গে বোঝানোর পরামর্শ দিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রশান্তকুমার রায়। কারণ, মানসিক চাপের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ শক্তির একটা সংযোগ রয়েছে। তাই কোনও ভাবেই বয়স্ক মানুষটি যেন মনে না করেন, তিনি দুর্বল। শুধু এই বছরের জন্য তাঁকে বাড়িতে থাকতে হবে।  

আরও পড়ুন : অন্য রকম শারদীয়ায় এই সব মানলেই মন ভাল, নিরাপদে কাটবে পুজো

কী করা যেতে পারে?                         

  • প্রতিবেশী বা প্রিয়জনের থেকে নতুন জামা কিংবা পূজাবার্ষিকী উপহার পেলে খুশি হতে পারেন প্রবীণ নাগরিক।
  • পুজোর সময়টা তাঁর সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মেনে কথাবার্তা বলা। বয়স্ক মানুষটির কাছে তাঁর ছেলেবেলার পুজোর কথা জানতে চাওয়া।
  • প্রয়োজনীয় ওষুধ হাতের কাছে রাখতে বলা।
  • একই পরিবারের সদস্য হলে সে ক্ষেত্রে নিজেই তত্ত্বাবধান করা।
  • একই পরিবারের খুদে সদস্যের সঙ্গে প্রবীণ সদস্যটিকে বসিয়ে দিন। দু’জনের সময় কেটে যাবে দিব্যি।
  • সৃষ্টিশীল কাজে জড়িত থাকতে যাঁরা ভালবাসেন, তাঁরা বাড়িতে দুর্গা ও চার সন্তানের ছবি এঁকে ফেলুন।
  • যাঁদের ঈশ্বরবিশ্বাস আছে, তাঁরা পূজার্চনা করতে পারেন ঘরেই একান্তে।
  • চাইলে মডেলিং ক্লে দিয়ে বাড়িতেও সবাই মিলে ঠাকুর তৈরি করতে পারবেন, এতে যেমন মন ভাল থাকবে, তেমন পুজোর একটা আবহও তৈরি হবে।
  • প্রথমেই বুঝে নিতে হবে যে, ঝুঁকি বেশি থাকলেও এই মুহূর্তে সাবধানে  থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই। যা যা রোগভোগ আছে, তাদের সামলে রাখতে হবে। ওষুধপত্র খেতে হবে নিয়ম করে। ওষুধের জোগান যেন ঠিক থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঠিক সময়ে ঠিকঠাক খাবার খেতে হবে। শরীর ঠিক থাকলে, মনও হালকা থাকবে, এমনই মত অরিন্দমবাবুর।
  • হাত ধোওয়া, একটু দূরে থাকা ও বাইরে বেরলে মাস্ক পরার যে নিয়ম আছে, তা মেনে চলুন সবাই। পুজোর সময় বয়স্ক মানুষরা একান্ত দরকার না হলে বাইরে যাবেন না, সব রকম ভিড় এড়িয়ে চলুন।