ভাসানে নাচার পরিকল্পনা? তার আগে খতিয়ে ভাবুন এ সব

সুজাতা মুখোপাধ্যায়

১৮ অক্টোবর, ২০১৮, ১৩:৪৪
শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর, ২০১৮, ০৩:৩৪

পুরোমাত্রায় নাচা–গানার পরিকল্পনা থাকলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন।


রাত পোহালেই বিজয়া দশমী। বিসর্জনের ভিড়ে দুঃখের মধ্যেও লুটেপুটে নেওয়া শেষ আনন্দের রেশটুকু। তাই দুর্গোৎসবের মরসুমকে ধরে রাখতে আনন্দে দু’পাক নেচে নিলে ক্ষতি নেই তেমন৷ কিন্তু পুরোমাত্রায় নাচা–গানার পরিকল্পনা থাকলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন।

বয়স, ওজন, ভুঁড়ি আছে কি না, শারীরিক অবস্থা কেমন, কোনও অসুখবিসুখ আছে কি না, হাঁটু–কোমর–গোড়ালির কী অবস্থা ইত্যাদি ভুলে নাচলে কিন্তু নিজের ক্ষতি। বেশি চলাফেরা করার অভ্যাস না থাকলে, কতটুকু ধকল হার্ট–লাং নিতে পারে, সে আন্দাজ না থাকায়, দলে পড়ে উদ্দাম নৃত্য করলে হঠাৎ প্রাণ নিয়ে টানাটানি পড়তে পারে কিন্তু!

প্রেশারের ওষুধ খেলে বা ইনসুলিন নিলে হঠাৎ প্রবল নাচানাচির ফলে প্রেশার–সুগার বিপদসীমার নীচে নেমে বিপদ হতে পারে৷ বিদ্রোহ করতে পারে শরীরের নিম্নাঙ্গও৷ হাঁটু–কোমর–পা ব্যথায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়তে পারেন, বিশেষ করে বয়স বেশি হলে৷

আরও পড়ুন: পুজোয় বেড়াতে যাচ্ছেন? বাড়ির বাইরে থেকেই গাছেদের যত্ন নিন এ ভাবে

কখন নাচবেন

  • একটু–আধটু হাঁটু–কোমর–গোড়ালি ব্যথা আছে, কিন্তু ব্যায়ামে তা বশে থাকে, ওজন খুব বেশি নয়, এ রকম পরিস্থিতি হলে অবশ্যই নাচতে পারেন৷ যত ক্ষণ শরীরে কুলায়, তত ক্ষণই৷
  • ক্রনিক গাউটের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকলে কোনও বাধা নেই৷
  • ওজন বেশ বেশি কিন্তু কাজকর্ম–চলা–ফেরা– ফলে শরীর দিব্যি ফিট, কোনও বাধা নেই৷
  • গোড়ালি ব্যথাতেও নাচ ক্ষতি করে না৷ তবে জুতোর হিল যেন নরম হয়৷
  • বয়স হওয়া সত্ত্বেও হার্ট–লাংয়ের অবস্থা ভাল থাকলে অসুবিধে নেই৷

কখন নাচবেন না

  • তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রবল কোমর ব্যথা হলে নাচানাচিতে ব্যথা ফিরে আসতে পারে৷
  • হাঁটুব্যথা বা লিগামেন্ট চোটের জন্য অপারেশন হলে বছর খানেক পার হওয়ার আগে নাচানাচির প্রশ্ন নেই৷
  • কোমর ব্যথার সঙ্গে পায়ের পিছনে যদি ব্যথা হয়, ব্যাপারটা গুরুতর৷ রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উদ্দাম নৃত্য নয়৷
  • খুব বেশি ওজনের সঙ্গে ব্যথা–বেদনা থাকলে, বেশি নাচানাচি করলে ব্যথা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল৷
  • নিউরোপ্যাথি নামে নার্ভের ব্যথা থাকলে না নাচাই ভাল৷
  • অস্টিওপোরোসিস নামের হাড় ভঙ্গুর ও নরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে নিয়মিত ব্যায়াম করে ও ওষুধ খেয়ে যদি রোগকে বশে না এনে থাকেন, বেপরোয়া নাচে হাড় ভাঙতে পারে যখন–তখন, যাকে বলে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার৷ কাজেই সাবধান৷
  • হৃদরোগ থাকলে ডাক্তারের মত নিয়ে তবে লাফালাফি করার প্রশ্ণ৷
  • ফুসফুসের অসুখেও তাই৷ মাঝেমধ্যে দমের অভাব হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করুন কী করবেন৷
  • ক্রনিক অসুখ থাকলে ডাক্তারের মত না নিয়ে কিছু করা ঠিক নয়৷
  • জ্বর থাকলে নাচতে এমনিতেই ইচ্ছে করে না৷ ওষুধপত্র খেয়ে জ্বর কমলে, ক্লান্ত না লাগলে একটু–আধটু নাচতে পারেন৷ বাড়াবাড়ি করলে ক্লান্তি বাড়বে৷

​​আরও পড়ুন: ট্রেনে বেড়াতে যাচ্ছেন? জেনে নিন কিছু জরুরি তথ্য

নাচের নিয়ম

  • হাই হিল পরার অভ্যাস না থাকলে, মধ্যবয়সের পর বিশেষ করে, হিল পরে না নাচাই ভাল৷ হিল উল্টে গেলে হাড়গোড় ভাঙতে পারে৷
  • হার্ট–লাংয়ের অসুখ বা অন্য ক্রনিক অসুখ যদি থাকে ঘাম হলে, মাথা ঝিমঝিম করলে বা ক্লান্ত লাগলে থেমে যান৷ বিশ্রাম নিয়ে শরীর ঠিক লাগলে আবার শুরু করতে পারেন৷
  • পায়ের পাতায় ব্যথার কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি৷ এই খামতি না মিটিয়ে বেশি নাচলে পায়ের পাতায় বা আঙুলে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার হতে পারে৷ যা সে সময় বোঝা না গেলেও পরে মারাত্মক ব্যথার মাধ্যমে জানান দেয়৷ একই কথা প্রযোজ্য  অস্টিওপোরোসিসের ক্ষেত্রেও৷
  • হাঁটু–কোমর ব্যথা থাকলে ফ্লোর ড্যান্স, স্নেক ড্যান্স ইত্যাদি করবেন না৷
  • হাঁটু–কোমর ব্যথায় খুব বেশি বেন্ডিং বা টুইস্টিং চলবে না৷
Community guidelines
Community guidelines