উৎসবের মরসুমের অবাধ্য শরীরকে এ বার বশে আনুন এই সব উপায়ে

নিজস্ব প্রতিবেদন

১৯ অক্টোবর, ২০১৮, ০৮:০০
শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর, ২০১৮, ০৯:৪৮

অবাধ্য শরীরকে বশে আনুন এই সব উপায়ে।


পুজোর ক’দিন খুব হুল্লোড় হয়েছে। কেউ বা রাত জেগে পার্টি করেছেন, মদ খেয়েছেন। আবার কেউ বা মদ না খেলেও, বাড়িতেই নানারকম মশলাদার খাবারদাবার-আড্ডা-প্যান্ডেল হপিংয়ে দিন কাটিয়েছেন৷ রাস্তাতেও চুটিয়ে খেয়েছেন অস্বাস্থ্যকর চর্বি–তেল–ঝাল–মশলায় ভরপুর খাবার৷

কাজেই সুস্থ শরীরও যে একটু বেইমানি করতে পারে তা নিয়ে আর সন্দেহ নেই৷ খারাপ শরীর নিয়েই অফিস যেতে হবে৷ যাঁদের অফিস যাওয়ার বিষয় নেই, তাঁদেরও ফিরতে হবে আগের নিত্যনৈমিত্তিক রুটিনে। সে সব কথা মাথায় রেখে এ বার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করুন৷

এই প্রস্তুতি পর্ব কিন্তু এখন থেকেই একটু একটু করে শুরু করতে না পারলে শরীর খারাপে সহজেই কাবু হয়ে পড়বেন। আপনার প্রস্তুতিপর্বকে ঝালিয়ে নিন এ ভাবে।

প্রস্তুতি

সাততাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার দরকার নেই৷ ঘুম ভেঙে গেলেও একটু গড়াগড়ি করুন৷ ৬–৭ ঘণ্ঢার পরিপূর্ণ বিশ্রাম যেন হয়৷ ধীরেসুস্থে উঠে এ বার বোঝার চেষ্টা করুন, শরীরে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না৷ গা ম্যাজম্যাজ করছে? পেট ভার হয়েছে বা চোঁয়া ঢেকুর উঠছে? গা–বমি করছে বা বমি হচ্ছে? ঘুম-ঘুম লাগছে? মাথা ঘুরছে? কিংবা এদের দু’–চারটে মিলেমিশেও জটিলতা আসতে পারে৷

ঘুম থেকে উঠে শরীর খারাপ লাগলে ঘাবড়ে যাবেন না৷ হ্যাংওভার মনে করে কালো কফি আর অ্যাসপিরিন খেয়ে সমস্যা বাড়াবেন না৷ একটু ধৈর্য ধরুন৷ সব কষ্টেরই সমাধান আছে৷

সমাধান

  • এক গ্লাস জল খান৷ ঠান্ডা, গরম, লেবু দিয়ে, লেবু–মধু দিয়ে, যেমন আগেও রোজ খেতেন৷ তার পর সারাদিন অল্প অল্প করে জল খেতে থাকুন৷ বেশি মদ খেলে কম–বেশি জলের অভাব হয় শরীরে৷ সেই অভাব পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লান্তি কমে না৷ অম্বল–বদহজম হলেও জল খাওয়া ভাল৷
  • পেট ভার হয়ে চোঁয়া ঢেকুর উঠলে, গলা–বুক জ্বালা করলে বা গা–বমি করলে প্রোকাইনেটিক মেশানো পিপিআই জাতীয় ওষুধ, যেমন ওমিপ্রাজোল–ডমপেরি কম্বিনেশন খেতে পারেন৷ লিকুইড অ্যান্টাসিডেও কাজ হয় অনেকের৷ ৪–৬ চামচের মতো খেয়ে দেখুন৷
  • বমি হলে হতে দিন৷ বদহজমের খাবার ও অ্যাসিড বেরিয়ে গেলে কষ্ট কমবে৷ সব বেরিয়ে যাওয়ার পরও বমি হতে থাকলে প্রোক্লোরপেরাজিন বা অন্ডানসেট্রন কম্বিনেশনের বমি বন্ধ করার ওষুধ খান৷ কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করুন৷ আর বমি না হলে ও গা–বমি ভাব কমে গেলে পাতলা স্যুপ, বার্লির জল, ও আরএস বা নুন–চিনির শরবত খান৷ না হলে ডিহাইড্রেশন হয়ে ক্লান্তি বাড়বে৷
  • ঘুম-ঘুম ভাব বা ক্লান্তি কাটাতে চা খান এক কাপ৷ সঙ্গে বিস্কুট বা একমুঠো মুড়ি৷
  • গা ম্যাজম্যাজ করলে বা মাথাব্যথা হলে কিছু খেয়ে ৬৫০ মিগ্রা প্যারাসিটামল খান৷
  • মাথা ঘুরলে টয়লেট থেকে এসে স্নান করে দেখুন কষ্ট কমে কি না৷ না কমলে আগে যে বমির ওষুধের কথা বলা হয়েছে, তা খেয়ে শুয়ে থাকুন খানিকক্ষণ৷
  • শরীর ভাল না থাকায় মেজাজ খারাপ থাকতে পারে৷ ঝামেলা এড়াতে কথা কম বলুন৷ কেউ কিছু বললে হঠাৎ রেগে যাবেন না৷ সতর্ক থাকুন। কারও সঙ্গে যেন ঝগড়া না লাগে৷
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের ধাত থাকলে কাল রাতে যদি পেট পরিষ্কার করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা না নিয়ে থাকেন, আজ সমস্যা হতে পারে৷ গরম জলে নুন ও পাতিলেবু মিশিয়ে খেয়ে দেখুন৷ তাতে কাজ হয় অনেকের৷ না হলে অস্থির হবেন না৷ নিয়মে ফিরে এলে দু–একদিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে৷

  • ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকলে পুরোটা না করতে পারলেও দু–একটা অন্তত স্ট্রেচিং ও ফ্রি হ্যাণ্ড করুন৷ খোলা হাওয়ার করতে পারলে তো কথাই নেই৷ মনের জড়তা কেটে যাবে৷ শরীরও হালকা লাগবে৷
  • শরীরে কোনও অস্বস্তি না থাকলেও অন্য দিনের তুলনায় খাওয়া–দাওয়া একটু কম করুন৷ অম্বল, গা–বমি, পেট ভার ইত্যাদি থাকলে কষ্ট না কমা পর্যন্ত তেমন কিছু না খাওয়াই ভাল৷ বা খেলেও সামান্য কিছু৷ খিদে পেলে দুপুরে হালকা ঝোল–ভাত বা স্যুপ–টোস্ট কিম্বা স্টু–হাতরুটি জাতীয় সহজ পাচ্য খাবার খাবেন৷
  • চা–কফি–সিগারেট একটু কম খান৷ অফিসে ঘুম তাড়াতে এদের সাহায্য না নিয়ে যদি যাতায়াতের পথে একটু ঝিমিয়ে নেওয়া যায়, সেটাই বেশি ভাল হবে৷ দুপুরে কম খেলেও ঘুম কম পাবে৷
  • রাতে সহজপাচ্য খাবার অল্প করে খেয়ে তাড়াতাড়ি শুতে যান৷
  • পর দিন সকালেও যদি দেখেন কষ্ট যেমন ছিল তেমনই আছে বা খুব একটা কমেনি, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন৷
Community guidelines
Community guidelines