উৎসবের মরসুমে দেদার পার্টি? অনিয়মে মিশিয়ে নিন নিয়মের ককটেল

সুজাতা মুখোপাধ্যায়

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১৬:২৪
শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২১:৩২

পুজোর ক’দিন আনন্দ অবশ্যই উপভোগ করুন তবে বেলাগাম ভাবে নয়।


পুজোর আমেজে নিজেকে মাতিয়ে রাখতে কেই বা চান না বলুন? কমবয়সিরাই কেবল পূজোয় আনন্দ করবেন, আর বাকিরা অসুস্থ হওয়ার ভয়ে বাড়িতে বসে ছুটি কাটাবেন, এমনটা মোটেও নয়। পুজোর ক’টা দিন ডায়েট ভুলে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া আর আড্ডার সুবর্ণ সুযোগ। তবে বয়স যা-ই হোক না কেন, অনিয়মের মাঝে একটু নিয়মও কিন্তু ঢুকিয়ে দেওয়া দরকার৷ না হলে সুস্থ শরীর ব্যস্ত হতে বেশি সময় লাগে না৷

এ বারের পুজোয় অষ্টমী ও নবমী পরেছে সপ্তাহের শেষের দু’দিন। পুজো মানেই দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার পর পুরনো বন্ধুদের আবার মিলন। জমিয়ে আড্ডা আর পার্টি! পুজোর ক’দিন আনন্দ অবশ্যই উপভোগ করুন তবে বেলাগাম ভাবে নয়। এক একটা বয়সের জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে এক একটা নিয়ম।

অসুস্থ হলে এক রকম ভাবে আনন্দ করতে হবে, সুস্থ হলে আর এক রকম ভাবে। কোন কোন নিয়ম মানলে একটু আধটু অনিয়মেও শরীর বিদ্রোহ করবে না, জেনে নিন।

কম বয়সে

  • মদ্যপানের পরিকল্পনা না রাখাই ভাল। শরীরের জল শুষে নিয়ে শরীরকে শুষ্ক করে তোলে অ্যালকোহল। তবুও যদি সেই পরিকল্পনা একান্তই থাকে তা হলে সারা দিন বেশি করে জল খান৷

  • খালিপেটে নয়, বরং সামান্য মদ্যপানও ভরা পেটে করুন। এ সময় ভাজাভুজি এড়িয়ে উপযুক্ত অথচ স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন সঙ্গে। এতে অ্যালকোহলের পরিমাণ যেমন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, তেমনই মদ শরীরের পেশী ও স্নায়ুকেও অতিরিক্ত উত্তেজিত করতে পারবে না।

  • পরের দিন সময় মতো ব্রেকফাস্ট করতেই হবে। পেট খালি থাকলেই হ্যাংওভার ঘিরে ধরবে।

  • গ্যাস–অম্বলের ধাত থাকলে এবং অনিয়মে তা বাড়বে বলে মনে হলে পার্টির আগে অম্বলের ওষুধ খাবেন কি না সে পরামর্শ চিকিৎসকের কাছে নিন৷ নইলে এক কাপ জলে এক চামচ জিরে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে সেই জল খেয়ে নিন। গ্যাস–অম্বলকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর মোক্ষম দাওয়াই।

​আরও পড়ুন: পুজোর আগে এই ডায়েট মেনে চলুন! তা হলেই পাবেন নজরকাড়া ফিটনেস!​

  • পার্টি সচরাচর রাত্রেই হয়৷ সে ক্ষেত্রে দিনে যথাসম্ভব হালকা ঘরোয়া খাবার খাওয়াই ভাল।

  • রাতে পার্টি থাকলে সম্ভব হলে দুপুরে একটু গড়িয়ে নিন৷ গর্ভবতী হলে অবশ্যই ভাল করে ঘুমিয়ে নেবেন৷ তা হলে মদও চলবে না একেবারেই।

বয়স্ক ও মধ্যবয়সের প্ল্যান

  • নিয়মিত যে সব ওষুধ খান, তা খেতে ভুলবেন না৷

  • প্রেশার, সুগার, পেট বা হার্টের রোগ, হাই কোলেস্টেরল ইত্যাদি থাকলে পার্টিতে যাওয়ার আগে হালকা খাবার খান৷ পেট ভরা থাকলে নিষিদ্ধ খাবারের টান কমবে৷

  • হৃদরোগ, মৃগী বা কোনও জটিল ক্রনিক অসুখ থাকলে কিংবা বয়স বেশি হলে খুব বেশি রাত পর্যন্ত বাইরে না কাটানোই ভাল৷ ঘুমের অভাব হলে সমস্যা বাড়তে পারে৷

  • আর্থ্রাইটিসের রোগী হাই হিল জুতো পরার আগে দু’–বার ভাববেন৷

  • কোষ্ঠকাঠিন্যের ধাত থাকলে ল্যাকটুলোজ বা ইসবগুল খেতে হতে পারে দু’–এক দিন৷

​আরও পড়ুন: এ বার পুজোয় প্রিয়জনের হাতে তুলে দিন এ সব স্মার্টফোন!​

মদ্যপান করলে অবশ্যই খেয়াল রাখুন হ্যাংওভারের বিষয়টিও। পরের দিনের যাবতীয় কাজ পণ্ড করতে না চাইলে ও শরীরকে অকারণে ব্যস্ত করতে না চাইলে মদ্যপানের দিন মেনে চলুন কিছু নিয়মকানুন। হ্যাংওভার কাটানোর প্রথম ও প্রাথমিক শর্ত, পরিমিতিবোধ। কোনও ভাবেই অতিরিক্ত মদ্যপান নয়।