পুজোয় নতুন জুতো এবং ফোস্কাও, এড়াবেন কী উপায়ে?

আত্রেয়ী বসু

১৮ অক্টোবর, ২০২০, ১৬:১০
শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর, ২০২০, ১৬:৪২

ফোস্কারও একটা নিয়ম থাকে। আমাদের পায়ের পাতার নির্দিষ্ট কয়েকটা জায়গাতেই ঘুরেফিরে ফোস্কা পড়তে থাকে।


রবি ঠাকুরের 'জুতা আবিষ্কার'-এর সে দিন আর নেই। শুধু 'মলিন ধুলা' থেকে পা ঢেকে রাখাতেই আটকে নেই জুতোর ব্যবহার। সে এখন ফ্যাশনের একটা বড়সড় অঙ্গ। আর পুজোর সময় তো কথাই নেই! কিন্তু পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে নতুন জুতো না হয় পরলেন। সঙ্গে কিন্তু ফোস্কা ফ্রি! আর পুজোর আনন্দ নিমেষে মাটি করে দিতে খান দুয়েক ফোস্কাই যথেষ্ট।

নতুন সাজে, মেকআপে অনন্যা। এ দিকে, ফোস্কার কল্যাণে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ঠাকুর দেখা। সেটা কি ভাল ব্যাপার আদৌ? হ্যাঁ, এ বার পুজোটা একেবারে অন্য রকম। আগের মতো ঘুরে ঘুরে প্যান্ডেল চষে ফেলা হয়তো সম্ভব নয়। তবে রাত্রের দিকে ভিড় এড়িয়ে কেউ কেউ হয়তো এক-আধ ঘণ্টার জন্য বেরোবেন। তাই নতুন জুতোর ফোস্কা বাঁচিয়ে কী ভাবে পুজো কাটাবেন, আসুন জেনে নিই।   

  •  জুতো কেনার সময় প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে স্বাচ্ছন্দ্যর কথা। শপিং-এর সময়ে হঠাৎ যে জুতোজোড়া দারুণ আকর্ষণীয় লাগে, সটান কি বসি আমরা অনেকেই। নিজেদের অল্পস্বল্প অস্বাচ্ছন্দ্য দেখেও দেখি না। হয়তো বা পায়ের মাপের চেয়ে কিঞ্চিৎ ছোট বা টাইট জুতো নিয়েই বাড়ি ফিরি। এর ফল হতে পারে বেদনাদায়ক। তাই আরামের সঙ্গে কোনও সমঝোতা নয়। আর অবশ্যই পুজোর কয়েকদিন আগে থেকেই বাড়িতে নতুন জুতোয় হাঁটাহাঁটি করে তাতে অভ্যস্ত হয়ে নিন।

আরও পড়ুন:গরম জামা রোদে দেওয়া মানেই পুজো আসছে

  • নতুন জুতো পরে বেরনোর আগে পা অবশ্যই ভাল ভাবে ময়শ্চারাইজ করে নিন। নারকেল বা সর্ষের তেল বহু পুরনো প্রতিবিধান। পেট্রোলিয়াম জেলি, ভেসলিনও ব্যবহার করতে পারেন। পায়ের পাতা আর্দ্র থাকলে ফোস্কা পড়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। সাধের যে জুতো পরে বেরনোর প্ল্যান, তার শক্ত অংশগুলোতে আগে থেকে লাগিয়ে রাখতে পারেন ভেসলিন। তাতে ওই জায়গাগুলোও কিছুটা নরম হবে; ঘষা লেগে ফোস্কা পড়ার ঝুঁকিও খানিক কমবে।

​​নতুন জুতো পরে বেরনোর আগে পা অবশ্যই ভাল ভাবে ময়শ্চারাইজ করে নিন।

  • ক্রান্তীয় জলবায়ুর দেশে বাস। ঘাম হওয়ার প্রবণতাও তাই বেশি আমাদের। একটানা হাঁটাহাঁটির সময়ে পায়ে ঘাম বসে ফোস্কা পড়ার প্রবণতা বাড়ে। ডবল লেয়ার্ড মোজার দাম কিছুটা বেশি ঠিকই, কিন্তু এর ব্যবহার অনেকাংশে এর থেকে ফোস্কা প্রতিরোধ করতে সক্ষম। জুতো পরার আগে তাতে ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে নিলেও ভাল ফল পাবেন।
  • ফোস্কারও একটা নিয়ম থাকে। আমাদের পায়ের পাতার নির্দিষ্ট কয়েকটা জায়গাতেই ঘুরেফিরে ফোস্কা পড়তে থাকে। যেমন- গোড়ালির পিছনের অংশে, বুড়ো আঙুলের উপরে বা তলায়, কড়ে আঙুলের পাশে। ঠাকুর দেখতে বেরনোর আগে আমরা যদি ওই জায়গাগুলোয় পেপার সার্জিক্যাল টেপ লাগিয়ে নিই, তবে খানিকটা নিশ্চিন্তে থাকা যায়।

আরও পড়ুন: দূরত্বের আশা, দূরত্বের ভাষা...

ফোস্কা পড়লে লাগিয়ে নিন  অ্যালোভেরা জেল কিংবা মধু।

  • এত কিছু মেনে চলার পরেও যদি পুজোয় বেরিয়ে পায়ে কোনও রকম অস্বস্তি, কষ্ট অনুভব করেন, তবে তৎক্ষণাৎ হাঁটা থামিয়ে বসার জায়গা খুঁজে নিন। জুতো খুলে পায়ের পরিস্থিতি বুঝে সেই মতো ব্যবস্থা নিতে হবে। সঙ্গের ব্যাগে অবশ্যই রাখবেন ব্যান্ড-এইড।
  • এর পরেও ফোস্কা যদি পড়েই যায়, আপনার জন্য রয়েছে অ্যালোভেরা জেল, মধু, টুথপেস্ট, গ্রিন টি, ডিওডোরেন্ট, বোরোলিন ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধু ভুলেও বেশি উৎসাহী হয়ে ফোস্কা ফাটিয়ে ফেলবেন না। কোনও কারণে ফেটে গেলে সেখানে দ্রুত অ্যান্টিসেপটিক অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে ধুলোবালি থেকে রক্ষা করতে হবে।