পিরবাবার মাজারের পাশেই পূজিত হন দশভূজা 

সীমান্ত মৈত্র

০১ অক্টোবর, ২০১৯, ১৪:১৭
শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর, ২০১৯, ১৪:২৯

সম্প্রীতির পুজো গোপালনগরে।


মাজার তৈরি হয়েছিল কবে, জানেন না এলাকার প্রবীণ মানুষেরাও। গোপালনগর থানার পাল্লা দক্ষিণপাড়ার প্রাচীন এই পিরবাবার মাজারে বছরভর দূরদূরান্ত থেকে এসে চাদর চড়ান হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, মাজার খুবই জাগ্রত। অতীতে এখানে পিরবাবা দেখা দিতেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। মাজারকে ঘিরেই এলাকায় গড়ে উঠেছে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির দৃঢ় বন্ধন।
 
সেই বন্ধন বজায় থাকে দুর্গাপুজোতেও। মাজার ঘেঁষা একফালি মাঠে প্রতি বছর ধুমধাম করে দুর্গা পুজোর আয়োজন করে আসছেন হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। পাল্লা দক্ষিণপাড়া পুজো কমিটির তত্ত্বাবধানে এখানে   পুজো হচ্ছে ৮৪ বছর ধরে।
 
পুজো আয়োজনে এখন খুবই ব্যস্ত জিয়ারুল মণ্ডল, শাহজাহান মণ্ডল, কিশোর দে, মনোজ রায়, বাদল দাসরা। পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বারের পুজোর থিম, ‘‘সবুজকে করো আলিঙ্গন।’’ মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে জীবন্ত গাছের চারা ও প্লাস্টিকের গাছ দিয়ে। থিমের সঙ্গে মানানসই প্রতিমা। স্থানীয় শিল্পী গুপিনাথ চক্রবর্তী ব্যস্ত প্রতিমা তৈরিতে। 
 

 

 
মাজারের কাছে দেখা হল বছর বাহান্নর মহম্মদ কাদের মণ্ডলের সঙ্গে। তাঁর কথায়, ‘‘ছোটবেলা থেকেই আমরা এক সঙ্গে মিলেমিশে পুজোর আয়োজন করি। পুজোর ক’টা দিন হিন্দু ভাইদের সঙ্গে আমরাও আনন্দে মেতে উঠি। আমাদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই।’’  পুজো কমিটির সম্পাদক কিশোরকুমার দে বলেন, ‘‘এখানে না এলে বোঝা সম্ভব নয়, দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ভিত কতটা দৃঢ়।’’
 
তিনি জানান, প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিন থেকে তিন দিনের মেলা বসে মাজারে। সেটাও দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশেই করেন। আর দুর্গাপুজোয় তো বাঁশবাগানে গিয়ে বাঁশ কাটা, চাঁদা তোলা, প্রতিমা মণ্ডপে তোলা, প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া-সবই এক সঙ্গে করেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।
 
সিরাজুল মণ্ডল নামে স্থানীয় এক চাষির কথায়, ‘‘অন্য জায়গায় কী অবস্থা জানি না। তবে এখানে আমরা সকলে মিলে শান্তিতে বসবাস করে আসছি। ইদ, পুজো, মেলায় আমরা একত্রে মেতে উঠি। এটাই আমাদের পরম্পরা।’’ গ্রামবাসীরা জানান, এখানে কখনও অশান্তি ছড়ায়নি। সকলেই বোঝেন, এতে ক্ষতি ছাড়া লাভ কিছু হয় না। বরং গভীর রাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে, হিন্দু ভাইরাই তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। ইদের দিন হিন্দু ভাইরা কব্জি ডুবিয়ে খেয়ে আসেন মুসলিম বন্ধুর বাড়িতে।
 
সেই ধারা বজায় রেখেই শারদোৎসবে মাতে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।