রায়দিঘিতে সম্প্রীতির দুর্গাপুজো পেরিয়েছে ৬০ শরৎ

দিলীপ নস্কর

০২ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:৪৩
শেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:৫৫

হিন্দুরা ইদের উৎসবে যোগ নেন। দুর্গাপুজোয় মেতে ওঠেন মুসলিমেরা।


পুজোর আগের ক’দিন সৌমিত্র, সাদ্দামদের দম ফেলার সময় নেই। মনও নেই অন্য কাজে। সকাল হলেই পুজোর দায়িত্ব নিয়ে মেতে সকলে। চাঁদা তোলার কাজে বাড়িতে বাড়িতে যাওয়া। মণ্ডপসজ্জার কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা তা দেখা— সব কাজই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে করেন।
 
রায়দিঘির নগেন্দ্রপুর পঞ্চায়েত দমকল সর্বজনীন নবদুর্গা কমিটির পুজোটি বছরের পর বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে আসছে। এ বছর এই পুজো ৬১ বছরে পা দিল।
 
ঠাকুরান ও মণি নদী ঘেরা ওই গ্রামের পাশে স্কুলমাঠ। সেই মাঠের পাশে ইদগার মাঠ। সেখানে নামাজ পড়া হয়। ওই মাঠের কিনারায় রয়েছে বড় বেল গাছ। দেবী আরাধনার সময়ে ওই বেল গাছেই পুজো দেওয়া হয়।
 
মূলত দিনমজুর ও কৃষিজীবী মানুষের ওই গ্রামে হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে আড়াই হাজার লোকের বসবাস। হিন্দুরা ইদের উৎসবে যোগ নেন। দুর্গাপুজোয় মেতে ওঠেন মুসলিমেরা। একে অন্যের অনুষ্ঠানে যাতায়াতের এই রীতি এ গ্রামের সব পরিবারে বংশ পরম্পরায় হয়ে আসছে। হিন্দু সম্প্রদায় পুজোর সময়ে যেমন নতুন জামাকাপড় কেনাকাটা করে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে নতুন জামাকাপড় কেনেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতেই পুজো উপলক্ষে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনেরা আসেন।
 
নগেন্দ্রপুর পঞ্চায়েত দমকল সর্বজনীন নবদুর্গা কমিটির সহ-সভাপতি সাদ্দাম গাজি বলেন, ‘‘পুজো ও ইদ দু’টো উৎসবই আমাদের কাছে সমান। প্রতি বছর এক সঙ্গে দেবী দুর্গার আরাধনায় মেতে উঠি আমরা। ইদের সময়ে আমরা যেমন সকলকে আমন্ত্রণ করি, তেমনই দুর্গাপুজোর সময়ে আমরা আমন্ত্রিত হই।’’ কমিটির সাধারণ সদস্য ইয়াসিন গাজির কথায়, ‘‘এই ক’দিন পুজোর নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। চাঁদা তোলা থেকে নানা কাজ দুই সম্প্রদায় মিলেই চালিয়ে যাচ্ছি এত বছর ধরে।’’
 
পুজো কমিটির সভাপতি তাপস হালদার, সৌমিত্র হালদার বলেন, ‘‘এটা শুধু আমাদের উৎসব বলে মনে করতে পারি না। হিন্দু-মুসলমান সকলে মিলেই সমস্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেয় এখানে। কোথাও ভেদাভেদ নেই।’’