ডালিম গাছতলায় পুজোয় অঞ্জলি দিয়ে যান রানি ভবানী

নিজস্ব সংবাদদাতা

২১ অক্টোবর, ২০২০, ১৮:৪৫
শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর, ২০২০, ১৯:১৬

বরাবর একচালের প্রতিমার পুজো হয় এই বাড়িতে। প্রতি বছর এই পুজো দেখতে ভিড় করেন মানুষজন।


তিনশো বছরের শহর বহরমপুর। সেই শহরের ইতিহাসে ধরা আছে বেশ কিছু প্রাচীন পুজোর কথা। কিন্তু কথিত, তারও দুশো বছর আগে যখন নলখাগড়ার জঙ্গল ছিল আজকের খাগড়ায়, তখন বীরভূম থেকে তৎকালীন ব্রহ্মপুরে এসেছিলেন সনাতন মজুমদার। তাঁর বংশধর দীপক মজুমদার বলেন, “বর্গিদের অত্যাচারে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন সনাতন।” আরও বলেন, “আজকের বনবিহারী সেন রোডে সেই সময়ে এক ডালিম গাছের নীচে চালাঘর করে দুর্গা পুজো শুরু করেছিলেন সনাতন মজুমদার।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের বাপ ঠাকুর্দার কাছে শুনেছি, সেই সময়ে নাটোরের রানি ভবানী বজরা নিয়ে বরাহনগরের পথে যেতে যেতে পুজোর ঘণ্টা শুনতে পেয়েছিলেন এই এলাকায়।” সেদিন ছিল দুর্গা ষষ্ঠী।
 
 রানি ভবানী তাঁর পাইক বরকন্দাজদের পুজোর স্থানে লোক পাঠিয়ে পুজোর কথা জানতে পারেন বলে দাবি করে দীপক বলেন, “সেখানেই সেদিন পুজোর অঞ্জলি দেন রানি ভবানী।” তার পর থেকে বংশপরম্পরায় পুজো করে আসছেন সনাতনের বংশধরেরা। খাগড়া-সহ জেলায় এই ‘আদি দুর্গাবাড়ি’র পুজোই প্রাচীন পুজো নামে পরিচিত। একই রীতি ও নীতি মেনে বর্তমানে সেই পুজোর ভার রয়েছে সনাতনের বর্তমান বংশধর চণ্ডীচরণ মজুমদারের কাঁধে। তাঁর বয়স এখন ৯৪ বছর। তাঁর তিন সন্তান দীপক, পুলক আর স্নেহাশু মজুমদার এখন পুজো সামলান। 
 
অশীতিপর বৃদ্ধ চণ্ডীচরণ মজুমদার বলেন, “আমার ছোটবেলায় শুনেছি কলাপাতায় পুজোর ভোগ দেওয়া হচ্ছে দেখে রানি ভবানী পুজোর বাসন পাঠিয়েছিলেন সনাতন মজুমদারকে।” 
 
 
এখনও নিয়ম মেনে এই পুজোতে সপ্তমী, সন্ধিপুজো, নবমী পুজোতে পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। আগে এখানে মহিষ বলি দেওয়া হত বলে দাবি মজুমদার পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের। এ ছাড়া সকালে বাল্যভোগ, দুপুরে অন্নভোগ, রাতে শীতল ভোগ দেওয়া হয় রীতি মেনেই। পুজোর নির্ঘণ্ট মেনেই পুজো হয় বলেই জানায় পরিবার। চণ্ডীচরণ বাবু বলেন, “আগে এই দুর্গাবাড়ির পাশেই ছিল আন্নাকালীর মন্দির। ওই মন্দিরের টোলে সংস্কৃত পড়তে আসতেন বহু পণ্ডিত মানুষ। তাঁরাই দুর্গাবাড়ির পুজোর দায়িত্বে থাকতেন।”
 
 
বরাবর একচালের প্রতিমার পুজো হয় এই বাড়িতে। প্রতি বছর এই পুজো দেখতে ভিড় করেন মানুষজন। এলাকার প্রাচীন পুজো হওয়ায়আসেন গবেষকরাও। এলাকার বাসিন্দা তিলক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ছোট থেকে এলাকার আদি পুজো বলতে মজুমদার বাড়িকেই জানি। তবে ওই বাড়িতে মহিষ বলির কথা শুনে থাকলেও চোখে দেখিনি। শুনেছি সেই বলি দেখতে নাকি এলাকার মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় করতেন।”
 
 আদালতের রায়ে ভিড় সামলাতে বেশ কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধির কড়াকড়ি রেখেই দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশাধিকার থাকবে না বলে জানালেন দীপক মজুমদার।
 
ছবি প্রতীকী।